গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের একটি রাস্তা নির্মাণ ও মামলা দায়েরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সরকার দলীয় দুই কাউন্সিলরের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষ চলাকালে কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ও তিনটি মোটরসাইকেলে আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটে। এতে এক কাউন্সিলরসহ আহত হয়েছেন কমপক্ষে ১০ জন।
শুক্রবার রাতে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের কামারজুড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে চারটি গুলির খোসা উদ্ধার এবং সাতজনকে আটক করেছে।
হামলায় আহত গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ৩৬নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোঃ সানাউর রহমানকে গাজীপুরে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদের বিভিন্ন ক্লিনিক ও হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।
আহত কাউন্সিলর মোঃ সানাউর রহমান জানান, ৩৬নং ওয়ার্ডের সাহেব বাড়ি সড়কের সলিংয়ের কাজ করার সময় স্থানীয় সোহরাব বাধা প্রদান করে এবং তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। এ ঘটনায় তিনি গত ১৬ ফেব্রুয়ারি সোহরাবসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে জয়দেবপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
বৃহস্পতিবার সোহরাব ছাড়া বাকি ২১ আসামি গাজীপুরের আদালতে জামিনের আবেদন করেন। এসময় আদালত আসামি জিল্লুর, মজিদ ও আশিকের জামিন আবেদন না মঞ্জুর করেন। জামিন নিয়ে ওই দিন সন্ধ্যায় সোহরাবের নেতৃত্বে তার সহযোগিরা কাউন্সিলরের কার্যালয়ে হামলা চালায় এবং অফিসের আসবাবপত্র, ল্যাপটপ ভাংচুর করে। তারা পার্শ্ববর্তী সাবেক মেম্বার সফিউল্লাহ ও এমদাদুলের বাড়িতেও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এ ব্যাপারে তিনি শুক্রবার দুপুরে জয়দেবপুর থানায় আরেকটি মামলা দায়ের করেন।
তিনি আরো জানান, রাত সাড়ে ৭টার দিকে তিনি অফিস থেকে বের হয়ে পার্শ্ববর্তী কাথোরা এলাকায় যাওয়ার পথে কামারজুরি এলাকায় পৌঁছলে ৩৫নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আব্দুল্লাহ আল মামুন মণ্ডলের উপস্থিতিতে মামুন মণ্ডলের সমর্থকরা তার মাইক্রোবাস গতিরোধ করে হকিষ্টিক ও লাঠিসোটা নিয়ে হামলা চালায়। তাকে মাইক্রোবাস থেকে নামিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। এতে তিনিসহ তার নাতি মোর্শেদ আলম ও গাড়ির চালক বকুল আহত হন। তিনি জানান, হামলাকারীরা কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলিবর্ষণ করে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে।
এ ব্যাপারে কাউন্সিলর মামুন মণ্ডল জানান, রাস্তাটি একপাশ দিয়ে বর্ধিত করা হচ্ছিল। ক্ষতিগ্রস্থরা এতে বাধা দিলে স্থানীয় কাউন্সিলরের সাথে বাদানুবাদ হয়। পরে ক্ষতিগ্রস্থরা দলীয় লোকজন নিয়ে তার কাছে গেলে তিনি বিষয়টি মিমাংসার আশ্বাস দেন।
তিনি আরো জানান, স্থানীয় উজারপাড়ার একটি স্কুলের ক্রীড়া প্রতিযোগিতার অনুষ্ঠান শেষে ফেরার পথে সন্ধ্যায় কামারজুড়ি পৌঁছলে কাউন্সিলর মোঃ সানাউর রহমানের সমর্থকরা তার সাথে থাকা লোকজনের উপর হামলা করে এবং তিনটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। হামলায় তার সমর্থক লিটন, রুহুল, ফেরদৌস, বাবু, নবীন ও জসিম আহত হন।
জয়দেবপুর থানার ভোগড়া পুলিশ ক্যাম্পের এসআই মোঃ জাকির হোসেন জানান, রাস্তা নির্মাণ ও মামলার জেরে দুই কাউন্সিলরের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। ঘটনাস্থল থেকে চার রাউন্ড গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে।
গাজীপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের এসআই মিঠু শেখ জানান, দুই কাউন্সিলরের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় অভিযান চালিয়ে সাতজনকে আটক করা হয়েছে।
এসএম/এমই





