কুষ্টিয়ায় ফারাক্কা বাঁধের পানি কমতে শুরু করেছে। মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত পদ্মায় পানি কমেছে ২ সেন্টিমিটার। বেলা সাড়ে ৩টা পর্যন্ত পদ্মা নদীর হার্ডিঞ্জ সেতু এলাকায় পানি বিপদসীমা থেকে ১৭ সেন্টিমিটার নিচে অবস্থান করছে।গড়াই নদীর পানি অপরিবর্তিত রয়েছে। কমেছে শাখা নদী মাথাভাঙ্গার পানি।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উত্তরাঞ্চলীয় পানি পরিমাপক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জহুরুল হক জানান, সোমবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত পদ্মা নদীতে ২ সেন্টিমিটার পানি কমেছে।তিনি জানান, পদ্মা নদীতে পানির বিপদসীমা ১৪ দশমিক ২৫ সেন্টিমিটার। সে খানে মঙ্গলবার সাড়ে ৩টা পর্যন্ত হার্ডিঞ্জ সেতুর নিচে পানি প্রবাহিত হচ্ছে ১৪ দশমিক ৮ সেন্টিমিটার।

Padma Pic-2কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আরিফুজ্জামান খান জানান, গড়াই নদীর পানি অপরিবর্তিত রয়েছে। এদিকে পানি বৃদ্ধির পরিমাণ কমলেও পানির স্রোত বৃদ্ধি পেয়েছে। তীব্র স্রোতের কারণে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর, মিরপুর ও ভেড়ামারা উপজেলার বেশ কয়েকটি এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে।

অপরদিকে দৌলতপুরের রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নে ১৯টি গ্রামের মধ্যে ১৮টি এবং চিলমারী ইউনিয়নে ১৬টি গ্রাম বন্যা কবলিত অবস্থায় রয়েছে। সেখানে বন্যার পানির অবস্থা অপরিবর্তিত রয়েছে। এ দুই ইউনিয়নের ৩৪টি গ্রামের প্রায় অর্ধলাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। সীমান্তবর্তী পদ্মা পাড়ের এ নিচু অঞ্চলে প্রায় সব বাড়িঘরে পানি ঢুকে গেছে। অনেকেরই বাড়িঘর ভেঙে পড়েছে। কেউ কেউ বাড়িঘর অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছেন।

এ সব এলাকায় সঙ্কট দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির। পশু খাদ্যেরও চরম সঙ্কট দেখা দিয়েছে। প্রধান ফসল আউস ধান ছাড়াও পাট, মরিচ, বেগুনসহ বিভিন্ন অর্থকারি ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। শিশু, কিশোর ও গবাদি পশু নিয়ে পানিবন্দি অবস্থায় হাজার হাজার মানুষ খেয়ে না খেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। আশঙ্কা বেড়েছে পানিবাহিত রোগের।

দৌলতপুর স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মসিউল ইসলাম বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, বন্যাকবলিত এলাকার জন্য ৪টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। তারা কাজ করে যাচ্ছে। বন্যার কারণে সাপের উপদ্রবও বৃদ্ধি পাওয়ায় জনমনে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। সাপের কামড়ের শিকার হয়ে চিকিৎসা নিয়েছে অন্তত ৬ জন। এ দুই ইউনিয়নের ৩০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে।

দৌলতপুরের মরিচা ইউনিয়নের মূল্লকচাঁদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এতে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে বিদ্যালয়টির ২৬৫ শিক্ষার্থীর পড়াশুনা। ফারাক্কা বাঁধের পানিতে দৌলতপুর ও ভেড়ামারা উপজেলার প্রায় দুই হাজার হেক্টর ফসলি জমিও ডুবে গেছে। দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. তৌফিকুর রহমান বলেন, ইতোমধ্যেই রামকৃষ্ণপুর ও চিলমারী ইউনিয়নের বন্যা কবলিতদের মধ্যে ২৩ টন চাল ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। সবকিছুর ব্যাপারে প্রশাসন তদারকি করছে।

এমবিএইচ