নদী ও পরিবেশ ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী ম. ইনামুল হক বলেন, ‘ভারত সরকার গঙ্গার পানি মাত্রাতিরিক্ত প্রত্যাহারের ফলে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে মরুকরণ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত গঙ্গার পানিপ্রবাহ শতকরা ৯০ ভাগ কমে ১০ ভাগে নেমে এসেছে। ফলে গঙ্গা অববাহিকায় ৩০টি নদী শুকিয়ে গেছে। সম্প্রতি গঙ্গার উজানে আরও ১৬টি নতুন বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন বাঁধ হলে হলে গঙ্গার কোনো পানি আর বাংলাদেশে আসবে না।’
জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে শনিবার বিকালে আন্তর্জাতিক ফারাক্কা কমিটি বাংলাদেশে আয়োজিত এক মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘তিস্তার পানি প্রত্যাহারের জন্য দেশের উত্তরাঞ্চলের মানুষও একই পরিনতি বরণ করতে চলেছে। ভারত আন্তঃনদী সংযোগ প্রকল্পের আওতায় ইতোমধ্যে তিস্তার গতি গজলডোবা বাঁধের মাধ্যমে পরিবর্তন করে গঙ্গা নদীতে নিচ্ছে এবং সেখান থেকে অন্যত্র প্রবাহিত করছে। অভিন্ন অন্যান্য ৫২ নদীর সবগুলোরই উজানে পানি প্রত্যাহারের জন্য ভারত বাঁধ নির্মাণ করছে।’
বিভিন্ন বাঁধ ও ব্যারেজের মাধ্যমে পানি প্রত্যাহারের ফলে শুষ্ক মৌসুমে বাংলাদেশে তীব্র পানি সংকট দেখা দিয়েছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘নদ-নদী তথা পানিকে ঘিরে বাংলাদেশের যে জীবনপ্রবাহ তা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। বাংলাদেশের মানুষের সম্মতি ছাড়া অভিন্ন নদীর পানি প্রত্যাহার শুধু আন্তর্জাতিক নদী ও পানি বিষয়ক আইন ও চুক্তির বরখেলাপ নয়, ১৯৯৬ সালের গঙ্গা পানিচুক্তিরও লঙ্ঘন।’
গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জুনায়েদ সাকি বলেন, ‘ভারত এভাবে পানি প্রত্যাহার করতে থাকলে এক সময় দেশটা মরুভূমিতে পরিণত হবে। বাঁধ দিয়ে বাংলাদেশে পানি সংকটের এ অপতৎপরতা বন্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে।’
মানববন্ধনে নতুন বাঁধ নির্মাণ বন্ধের আহ্বান জানানো হয়। এ ছাড়া, ফারাক্কা ও গজলডোবাসহ উজানের সকল বাঁধ ডি-কমিশন করে নদীগুলোর স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
অন্যান্যের মধ্যে এ সময় উপস্থিত ছিলেন- নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, জাতীয় পার্টি নেতা মোস্তফা জামাল হায়দার প্রমুখ।
এমকে





