নাগরিকদের মধ্যে বহু প্রতীক্ষিত উন্নত মানের জাতীয় পরিচয়পত্র (স্মার্ট কার্ড) বিতরণের কাজ আজ (সোমবার ) থেকে শুরু হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ঢাকার উত্তরা ও রমনা থানায় ও কুড়িগ্রামের বিলুপ্ত ছিটমহল দাশিয়ারছড়াতে স্মার্ট কার্ড বিতরণ করা হবে।

এবারের স্মার্ট কার্ডে ব্যক্তির নাম (বাংলা ও ইংরেজি), পিতা/মাতার নাম, জন্মতারিখ ও জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন নম্বর দৃশ্যমান থাকবে। কার্ডের পেছনে থাকবে ব্যক্তির ভোটার এলাকার ঠিকানা, রক্তের গ্রুপ ও জন্মস্থান। তবে সব মিলিয়ে স্মার্ট কার্ডের মধ্যে থাকা চিপ বা তথ্যভান্ডারে ৩২ ধরনের তথ্য থাকবে, যা মেশিনে পাঠযোগ্য হবে।
স্মার্ট কার্ডের সঙ্গে কাগজের তৈরি ল্যামিনেট করা বিদ্যমান কার্ডের বেশ কিছু পার্থক্য রয়েছে। প্লাস্টিকের (পলিমার দিয়ে) তৈরি কার্ডটি মজবুত ও দীর্ঘস্থায়ী হবে। কার্ডের মেয়াদ হবে ১০ বছর। নারীদের ক্ষেত্রে বিদ্যমান কার্ডে স্বামীর নাম দৃশ্যমান ছিল। পিতার নাম ছিল না। অপরদিকে পুরুষের কার্ডে স্ত্রীর নাম উল্লেখ ছিল না। একে বৈষম্যমূলক বলে বলা হচ্ছিল। এবার নারীদের স্মার্ট কার্ডে স্বামীর নাম দৃশ্যমান থাকবে না। সেখানে পিতার নাম থাকবে।

প্রাথমিকভাবে ঢাকা উত্তর সিটির ১ নম্বর ওয়ার্ড (উত্তরা) এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটির ১৯,২০ ও ২১ নম্বর ওয়ার্ডের (রমনা থানা) ভোটারদের মধ্যে স্মার্ট কার্ড বিতরণ করা হবে ৩ থেকে ২৬ অক্টোবরের মধ্যে। যেকোনো ব্যক্তি ১০৫ নম্বরে ফোন করে তাঁর স্মার্ট কার্ড বিতরণ সংক্রান্ত তথ্য জানতে পারবেন।

২২ ধরনের সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্র কাজে ,তবে আইনগতভাবে সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়ের নম্বর এখনো বাধ্যতামূলক করা হয়নি।

কমিশন শুরুতে ঢাকার সব ওয়ার্ডে একযোগে কার্ড বিতরণের কাজ শুরুর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। কমিশন সচিবালয় সূত্র জানায়, প্রস্তুতিমূলক কাজ শেষ করতে না পারায় আপাতত দুই সিটির চারটি এবং কুড়িগ্রামের দাশিয়ারছড়ায় স্মার্ট কার্ড বিতরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এমবিএইচ