সিলেটে বিদ্যুতের আসা যাওয়ার ভেলকিতে অতিষ্ঠ জনজীবন। ঘনঘন লোডশেডিংয়ে বিঘ্ন ঘটছে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা। জেনারেটর চালিয়ে চলছে ক্ষুদ্র ব্যবসাও।
নগরবাসী বলছেন,এখানে বিদ্যুৎ যায় না বরং আসে মাঝে মধ্যে। যদিও বিদ্যুৎ বিভাগের খাতায় সিলেটে লোডশেডিং বলতে কিছুই নেই।
নগরীর মির্জাজাঙ্গাল এলাকার একটি বাসায় সন্ধ্যার পর এক শিক্ষার্থী পড়ার টেবিলে বসার সঙ্গে সঙ্গে চলে যায় বিদ্যুৎ। প্রচন্ড গরমে মোমবাতি জালিয়ে চলে লেখাপড়া। ৬ ইঞ্চি লম্বা মোমবাতি শেষ হয়ে যায় কিন্তু ততক্ষণেও আসে না বিদ্যুৎ। এভাবে চলতে থাকলে পরীক্ষার ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার শঙ্কা তার।
শিক্ষার্থী দীপঙ্কর সিংহ অনিক বলেন, সন্ধ্যা হলেই বিদ্যুৎ চলে যায়, এ কারণে পড়াশোনা করতে খুব কষ্ট হচ্ছে, সামনে পরীক্ষা।
লোডশেডিংয়ের এমন চিত্র এখন প্রায় পুরো নগর জুড়ে। সবচেয়ে খারাপ অবস্থা পূর্ব জিন্দাবাজার, জল্লারপার, বালুচর, টিলাগড় এলাকায়। এসব এলাকায় কখনো বিদ্যুৎ আসে তিন ঘন্টা পরও।
গৃহিনী মিতালী দেবী বলেন, সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ঘন্টায় ঘন্টায় বিদ্যুৎ চলে যায় বিশেষ করে সন্ধ্যার পর তা বেড়ে যায়। তিনি আরও বলেন, সন্ধ্যা বেলায় শিক্ষার্থীরা পড়তে বসে, সামনে পরীক্ষা কিন্তু বিদ্যুৎ চলে গেলে তাদের পড়ালেখায় ব্যাঘাত ঘটে।
লোডশেডিংয়ে সবচেয়ে বেশী অতিষ্ঠ ব্যবসায়ীরা। ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে জেনারেটরের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে তাদের। এক ব্যবসায়ী বলেন, তেলের দামতো অনেক, জেনারেটর দিয়ে চালালে ব্যবসায় লাভের মুখ দেখা যাবে না। আরেক ব্যবসায়ী জানালেন, সন্ধ্যার পর বেঁচাকেনা একটু বাড়ে কিন্তু বিদ্যুৎ না থাকার কারণে ক্রেতারা দোকানে আসতে চান না।
তবে, এতো কিছুর পরও বিদ্যুৎ বিভাগের খাতায় লোডশেডিং বলতে কিছুই নেই। তাদের মতে লোডশেডিং মুক্ত এলাকা সিলেট। বিদ্যুৎ বিতরণ সিলেট অঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী মীর মোঃ রেজাউল কবির বলেন, সিলেটে কোনও লোডশেডিং নেই, বিতরণ সীমাবদ্ধতার কারণে সময় সমস্যা হতেই পারে। তিনি আরও বলেন, রক্ষাণাবেক্ষনের কারণে বেশ কিছু জায়গায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্নিত হতে পারে।
তবে, বিদ্যুৎ লাইন পুরনো হওয়ায় সেগুলো মেরামতের কাজে মাঝে মাঝে বিদ্যুৎ বন্ধ রাখতে হয় বলে দাবি প্রধান প্রকৌশলীর।
ঢাকা, ১০ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, জেআই





