আন্তর্জাতিক আদলতের রায়ের মাধ্যমে ভারতের কাছ থেকে সমুদ্রসীমা অর্জন করেছে বাংলাদেশ। এ অর্জন এসেছে আওয়ামী লীগ সরকারের হাত ধরে। এ উপলক্ষে বিজয় র‌্যালির আয়োজন করে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ ও আওয়ামী যুবলীগ। তাদের এই বিজয় র‌্যালির কারণে যানজটের ফাঁদে আটকা পড়ে চরম দূর্ভোগের শিকার হয়েছেন রাজধানীবাসী।

বুধবার (৯ জুলাই) বিকেলে ২৩ বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এ বিজয় র‌্যালির আয়োজন করা হয়। বিজয় র‌্যালির পূর্বে নগর আওয়ামী লীগ ও যুবলীগ সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে। দুটি অনুষ্ঠানই ছিল বিকালে। যুবলীগের অনুষ্ঠানের সময় ছিল বিকাল ২টা এবং নগর আওয়ামী লীগের সময় ছিল ৩টা ৩০ মিনিট।

বিজয় মিছিলে অংশ নিতে দুপুর ১২ টা থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে মিছিল নিয়ে সভাস্থলে আসতে থাকেন যুলীগের নেতাকর্মীরা। এরপর আসতে শুরু করেন মহানগর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। রাস্তা বন্ধ করে মিছিল নিয়ে আসা হয় এবং গুলিস্তান এলাকার রাস্তার দুই পাশে নেতাকর্মীদের গাড়ি পার্কিং করে রাখার জন্য সৃষ্টি হয় কঠিন যানজট।

সমাবেশ শেষ করে বিকাল ৩ টা ১০ মিনিটে বিজয় মিছিল বের করে যুবলীগ। বিজয় মিছিলটি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে শুরু হয়ে জিপিও মোড় হয়ে পুরানা পল্টন মোড় হয়ে আবার কেন্দ্রীয় কার্যলয়ের সামনে এসে শেষ হয়। এতে রাজধানীর গুলিস্তান ও এর আশপাশের সড়কে আরও কঠোর যানজটের সৃষ্টি হয়।

এরপর শুরু হয় মহানগর আওয়ামী লীগের সমাবেশ। সমাবেশ শেষে বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে আনন্দ মিছিল বের করে মহানগর আওয়ামী লীগ। মিছিলটি দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে জিপিও এবং পল্টন মোড় হয়ে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে গিয়ে শেষ হয়।

নগর আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের আনন্দ মিছিলের কারণে রাজধানীর নিত্য দিনের যানজট আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে। এর ফলে চরম দূর্ভোগে পড়েন কর্মস্থল থেকে ঘরে ফেরা মানুষ। অন্যান্য দিনের চেয়ে বুধবার তাপমাত্রাও ছিল একটু বেশি। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন ধর্মপ্রাণ রোজাদার মুসলমানসহ অন্যান্য সকল গোত্রের মানুষ।

যানজটের এ ভোগান্তিতে পড়ে অনেকে পায়ে হেঁটে ছুটেছেন বাসার দিকে। অনেকের সাথে ভারী জিনিসপত্র থাকার কারণে পায়ে হেটে যেতে না পেরে বাসের মধ্যেই বসেছিলেন ঘণ্টার পর ঘণ্টা। আবার অনেককে বাস থেকে নেমে অনেক দূর হেঁটে গিয়ে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে রিক্সাযোগে বাসায় ফিরতে দেখা গেছে।

যানজটে আটকে পড়া বাসের এক যাত্রীর কাছে যানযট সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি টাইমনিউজবিডিকে জানান, রাজধানীতে সব সময়ই যানজট থাকে। তবে রোজা শুরু হওয়ার পর থেকে এমন যানজট কখনো দেখিনি। সমুদ্র সীমা অর্জন করেছে বাংলাদেশ এটা জাতির জন্য অবশ্যই খুশির খবর। তাই বলে কি রোজার সময় এভাবে রাস্তা বন্ধ করে মিছিলের প্রয়োজন আছে? আনন্দ করতে হলে তো বিভিন্ন যায়গা রয়েছে। সোহরাওয়ার্দী বা কোন এক স্থানে বসে করতে পারে।

রাজধানীর গুলিস্তান থেকে পায়ে হেঁটে লালবাগ আমলীগোলার বাসয় ফিরেছেন বায়িং হাইজে কর্মরত গোলাম মাওলা রাসেল। পায়ে হেঁটে যাওয়ার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি টাইমনিউজবিডিকে বলেন, ‘‌‌‌‌‌ভাই আর বইলেন না। এই সরকার একা একা নির্বাচন করে ক্ষমতায় বসেছে। এখন তারা যা খুশি তাই করছে। তার কারণেই এখন পায়ে হেঁটে বাসায় ফিরতে হচ্ছে। সমুদ্র বিজয় হয়েছে সেটা কি? মানুষ জানে না। সেটা নিয়ে মানুষকে কষ্ট দেয়ার মানে হয় না। তবে কি ভাই! জানেন মানুষ এখন আর বোকা নেই। মানুষ সব বুঝে, পুলিশ দিয়ে গুলি না করলে সাধারণ মানুষ রাস্তয় নেমে আসতো’।

ঢাকা, এমআর, ৯ জুলাই (টাইমনিউজবিডি.কম) কেবি