মানবপাচার প্রতিরোধ, উদ্ধার, দ্রুত প্রত্যাবাসন এবং পুনর্বাসন সহযোগিতার জন্য সমঝোতা স্মারকে সই হচ্ছে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে।
আগামী ৬ জুন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বাংলাদেশ সফরে আসার পর এ সমঝোতা স্মারক সই হবে বলে জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র।
পরবর্তীতে সমঝোতা স্মারকের আলোকে আনুষ্ঠানিকভাবে দু’দেশের মধ্যে চুক্তিও সাক্ষর হবে।
এই সমঝোতা স্মারক সইয়ের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এ জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয় সমঝোতা স্মারকের খসড়া।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, মানবপাচার প্রতিরোধে উভয় দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রী পর্যায়ে সমঝোতা স্মারক সই হবে।
তবে বিষয়টি এখনও চূড়ান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব (রাজনৈতিক) মো. মোস্তাফিজুর রহমান।
সম্প্রতি আন্তর্জাতিক মহলে মানবপাচার বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসার পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সমঝোতা স্মারকের বিষয়ে আন্তঃ মন্ত্রণালয় বৈঠক করে।
বৈঠকে বলা হয়, নারী ও শিশু পাচার রোধ, উদ্ধার ও পুনর্বাসন সহযোগিতার জন্য বাংলাদেশ ও ভারত সরকার নিজ নিজ দেশে স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) প্রস্তুত করা হয়েছে।
এ ছাড়া বাংলাদেশের কক্সবাজারে গত ২০১২ সালের ৮ ও ৯ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে তৃতীয় দ্বি-পাক্ষিক সভায় পাচার হওয়া মানুষদের দ্রুত প্রত্যাবাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারকের খসড়া প্রস্তুত করা হয়।
ওই সমঝোতা স্মারক খসড়াটি সইয়ের বিষয়টি মন্ত্রিসভায় উত্থাপনের জন্য পাঠানো হয়। গত বছর ১ ডিসেম্বর মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদনও করা হয়। এটি উভয় দেশ সইয়ের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সমঝোতা স্মারকটিতে সই হলে উভয় দেশের নারী-শিশু ও মানবপাচার রোধ হবে। আর পাচার হওয়া মানুষদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে নেওয়া এবং তাদের পুনর্বাসনও সম্ভব হবে। কারণ বিদ্যমান পরিস্থিতে পাচার হওয়া নারী ও শিশুরা আইনি প্রক্রিয়ার কারণে দীর্ঘদিন উভয় দেশে আটকে থাকতে হয়।
সমঝোতা স্মারকের পর চুক্তি সই (স্বাক্ষর) হলেই পাচার হওয়া মানুষদের দ্রুত প্রত্যাবাসন করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এএইচ





