প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন দিল্লি সফরে তিস্তার পানি বন্টন চুক্তির গুরুত্ব সম্পর্কে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী বলেছেন, ভারতের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক যে উচ্চতায় পৌঁছেছে, তাতে কোনো একটি চুক্তি হলো কি না, তাতে কিছু আসে-যায় না। সম্পর্কের মূল ধারা কোন দিকে যাচ্ছে- সেটাই আসল কথা।

আজ  মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরের ওপর আলোকপাত করে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। তাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, প্রধানমন্ত্রীর সফরে তিস্তা চুক্তি কতটা গুরুত্ব পাবে? প্রধানমন্ত্রী আগামী ৭ থেকে ১০ এপ্রিল ভারত সফর করবেন।

বঙ্গবন্ধুর কন্যা হিসাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারতের সাথে প্রতিরক্ষা চুক্তি করা উচিত হবে না- জাসদ সভাপতি এবং স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম পতাকা উত্তোলনকারী আ স ম আব্দুর রবের এমন মন্তব্য সম্পর্কে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের কথা বলা উচিত না। এতে গুরুত্ব দেয়ারও কিছু নেই। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনেক অগ্রগতি অর্জন করেছে। জাতিসঙ্ঘের সহস্ত্রাব্দের উন্নয়ন লক্ষ্য (এমডিজি) অর্জনের পর বাংলাদেশ এখন টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যের (এসডিজি) দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। ২০২১ সালের আগেই বাংলাদেশ মধ্য আয়ের দেশে পরিণত হবে।

ভারতের সাথে প্রতিরক্ষা চুক্তি না সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) হবে- জানতে চাওয়া হলে মাহমুদ আলী বলেন, চুক্তি নয়, এমওইউ হবে। আর এ ব্যাপারে গোপন করার কিছু নেই। সবই জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে। নিন্দুকেরা যা বলছে তা সঠিক নয়।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নিয়ে মৃত্যুবরণকারী এক হাজার ৬৬১ জন ভারতীয় সামরিক বাহিনীর সদস্যকে মরণোত্তর ‘মুক্তিযুদ্ধ সম্মাননা’ জানানো হবে। প্রাথমিকভাবে তাদের মধ্যে ৭জনের নিকট আত্মীয়ের হাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্মাননা পদক ও পত্র তুলে দেবেন। তবে কোনো অর্থ দেয়া হবে না। অনুষ্ঠানে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখবেন।

এমবি