কালের গর্ভে একদিন পর হারিয়ে যাবে বঙ্গাব্দ ১৪২০। শুরু হবে বাংলা নতুর বছর ১৪২১ বঙ্গা্ব্দের  পথচলা। নতুন বছরকে অনেকটা গতানুগতিকভাবে সবাই বরণ করলেও প্রতিবছরই একটু আলাদা ভাবে পহেলা বৈশাখ বরণ করেন রাজধানীর পুরান ঢাকার বাসিন্দারা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বংশাল, আরমানীটোলা, তাঁতীবাজার, শাঁখারীবাজার, মৌলভীবাজার, বেগমবাজার, উর্দু রোড, চকবাজার, মোঘলটুলিসহ বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা  প্রত্যেক মহল্লা থেকে  আলাদা আলাদা  শোভাযাত্রা বের করবেন। পাশাপাশি বাঘ, মাছ, ময়ূর, বক, দোয়েল, কোয়েলসহ গ্রামবাংলার বিভিন্ন পশুপাখির নৈসর্গিক  ছবিতে বিভিন্ন অলিগলি ছেয়ে যাবে।
এছাড়া  বিভিন্ন সামাজিক ও মহল্লাবাসির উদ্যোগে সঙ্গীত ও বৈশাখী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ  পালাগান অনুষ্ঠিত হবে। আরও থাকবে পিঠা-পুলি, ইলিশ-পান্তাসহ পুরান ঢাকার ঐতিহ্য ফুটিয়ে তুলতে বিভিন্ন অলি গলিতে বসবে দোকান। মহল্লার বাসিন্দারা বন্ধু-বান্ধবকে দাওয়াত দিয়ে পান্তা-ইলিশ, মিষ্টি, মিঠাসহ বিভিন্ন খাবার খাওয়াবেন।
পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে পান্তা-ইলিশসহ বিভিন্ন খাবার বিতরন করা হয় মহল্লাবাসীসহ  গরিব-এতিমদের মাঝে।
এ বিষয়ে কথা হয় বংশালের বাসিন্দা ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী  শিমুল আক্তার শশী’র (১৯) সাথে। তিনি বলেন, একসময় ঢাকার প্রাণকেন্দ্র ছিল পুরান ঢাকা। পুরান ঢাকা শুধু বাংলারই নয়, উপমহাদেশের ইতিহাস-ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কালক্রমে এখানকার উৎসবগুলো নতুন ঢাকার বাসিন্দারা শুরু করেছেন।
তিনি বলেন, পয়লা বৈশাখের দিন পুরান ঢাকায় বিভিন্ন মহল্লা থেকে র‌্যালি বের হবে। এছাড়া বিভিন্ন এলাকায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে। পাশাপাশি  বন্ধু-বান্ধবিরা একেক জনের বাড়িতে বেড়াতে যাব।  ইলিশ-পান্তাসহ বিভিন্ন রকমের মজাদার পিঠা  খাবো। বিকেলে দল বেঁধে বেড়াতে বের হবো , আর গাইবো  এসো হে বৈশাখ এসো, এসো।  আর রাতে গানের প্রতিযোগিতা হবে। সেখানে গান গাইবো।
কথা হয় পুরান ঢাকার সিদ্দিক বাজারের বাসিন্দা শান্ত ইসলামের (৩০ ) সাথে। তিনি বলেন, পহেলা বৈশাখ সকালে উঠে পুরান ঢাকার রীতি অনুযায়ী র‌্যালি বের করি। এর পর বিভিন্ন পশুপাখির ছবি মহল্লার অলিতে-গলিতে লাগিয়ে রাখা হবে। এর পর পরিবারের সকলে ও বন্ধুদের নিয়ে একসাথে পান্তা-ইলিশ, মিষ্টি ,দই চিরাসহ বিভিন্ন খাবার খাব। পান্তা-ইলিশ পুরান ঢাকার ঐতিহ্য। এরপরে দল বেঁধে বিভিন্ন সাংস্কতিক অনুষ্ঠানে যাবো এবং সারাদিন ঘুরবো।
এ বিষয়ে কথা হয় রায়ের সাহেব বাজারের বাসিন্দা আবুল হোসেন মাতব্বর (৭০) এর সাথে। তিনি বলেন,  পহেলা বৈশাখ সকালে উঠে আমার মহল্লা থেকে র‌্যালি বের করব। এরপর পরিবারের  সকলে মিলে পান্তা-ইলিশসহ বিভিন্ন রকমের পিঠা-পুলি ও মিষ্টি খাবো। এর পর  বিভিন্ন আত্নীয়সহ বন্ধু-বান্ধবের বাসায় বেড়াতে যাব।  এছাড়া দুপুরে ভিক্টরিয়া পার্কে বৈশাখি গান হবে তা শুনতে যাবো। এভাবে আনন্দ-ফূর্তি করে সারাটা দিন কাটিয়ে দিবো।
[b]ঢাকা, এএম, ১২ এপ্রিল (টাইমনিউজবিডি.কম)// কেবি[/b]