সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হলো ঢাকাস্থ চট্টগ্রাম ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির ঐতিহ্যবাহী মেজবান ও মিলনমেলা। রাজধানীর মতিঝিলে সাদেক হোসেন খোকা কমিউনিটি সেন্টারে মেজবানের খানাপিনার এ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।
দিনের প্রথম প্রহর থেকে শুরু হয় মেজবানের আনুষ্ঠানিকতা। এ উপলক্ষে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রায় ৪ হাজার মানুষকে দাওয়াত দেয়া হয়েছিল বলে জানান সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাজী মোহাম্মদ ইসমাইল।
আয়োজক সূত্রে জানা যায়, খ্যাতিমান বাবুর্চি-কর্মীরা আগে থেকেই মেজবানের আয়োজন শুরু করেন। খাবারের তালিকায় ছিল গরুর কালো ভুনা, সাদা ভাত, নেহারি ও ডাল। সমিতির সভাপতি আবুল বাশার, ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি শফিকুর রহমান, সহ-সভাপতি আবদুল আজিজ, সহ-সভাপতি মোঃ রহিম উদ্দিনসহ কমিটির অন্যদের ব্যস্ত সময় পার করতে দেখা যায়।
সমিতির উপদেষ্টা প্রধান মো. মাহবুব আলমসহ নাছির উদ্দিন, হাজী আবদুল শুক্কুর, মো. আলী কাউসার, মোহাম্মদ হোসেনও আমন্ত্রিত অতিথিদের আপ্যায়নে ছিলেন ব্যস্ত।
আমন্ত্রিত অতিথিদের আপ্যায়নে এদিক ওদিক হাকডাক ছাড়ছিলেন সমিতির নির্বাহী পরিষদ সদস্য মো. আবদুল গাফফার, মো. ফোরকান, মো. জসিম। এদিন সকাল পেরিয়ে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আমন্ত্রিত অতিথিদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। তাদের মধ্যে ছিলেন রাজনীতিবিদ, আমলা, শিল্পপতিসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
শুধু চট্টগ্রাম নয়, এ আয়োজনে সারা দেশ থেকেই বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ আমন্ত্রিত ছিলেন। তরুণীদের উপস্থিতিও ছিল লক্ষণীয়। মনোমুগ্ধকর পরিবেশ, আন্তরিকতাপূর্ণ আপ্যায়ন, সাংস্কৃতিক আবহে আনন্দে আত্মহারা যেন আমন্ত্রিতরা।
জোহরের নামাজের পর ভোজের মূল পর্ব শুরু হলে ঐতিহ্যবাহী মেজবানের খাবারের ঘ্রাণে সবাই যেন হারিয়ে যাচিছল এক চিরচেনা চাটিগাঁয়। চোখে-মুখে সবারই তৃপ্তির চিহ্ন। অন্যদিকে ভোজনপর্ব শেষ হওয়ার পূর্বেই শুরু হয় সাংস্কৃতিক পর্ব।
কখনো সাম্পান ওয়ালা, অহালাসান গলার মালা কিংবা বুকের ভিতর বাঁধি রাইক্কুম তোয়ারে গানের তালে তালে নাচছিলেন অসংখ্য তরুণী-যুবক। সূর্য পাটে বসে। সব পাখি ঘরে ফেরে। নামে সন্ধ্যা। শেষ হয় কোলাহলপূর্ণ একটি দিনের। আবার প্রতীক্ষা এ দিনটির।
এমএনজে





