রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতি চক্রের একজনকে ইলেক্ট্রনিক ডিভাইসসহ আটক করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৩টায় প্রকৌশল অনুষদের জোড় রোল নম্বরধারীদের পরীক্ষা চলাকালে তাকে আটক করা হয়।
আটক হওয়া আশিক আহমেদ বগুড়ার শাজাহানপুর থানার মাঝিরা গ্রামের আব্দুস সোবহানের ছেলে। তিনি বগুড়ার আজিজুল হক কলেজের অর্থনীতি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।
এ বিষয়ে রাবি উপ-উপাচার্য চৌধুরী সারওয়ার জাহান বলেন, ‘আশিক শার্টের ভেতর সনি রেক্সন ফোনসেট বিশেষ কায়দায় বুকের সঙ্গে বেঁধে রাখে। শার্টের পকেটের একটা অংশে ছিদ্র রয়েছে।
সেই ছিদ্র শার্টেরই বাড়তি অংশ দিয়ে ঢেকে রাখা যায়। শার্টের ওই ছিদ্রের সঙ্গে ফোনের ক্যামেরা সেট করে আশিক। শার্টের পকেটের কাছের ওই অতিরিক্ত অংশ সরালেই সামনে থাকা প্রশ্নপত্র দেখা যায়।’
‘ফোনের সঙ্গে হেডফোন লাগানো ছিল। ওই হেডফোনের বাটন তার পকেটে থাকতো। বাটনে একটা চাপ দিয়ে ক্যামেরা চালু হয়। দ্বিতীয় চাপে ছবি ওঠে। আর তৃতীয় চাপে ওই ছবি নির্দিষ্ট ঠিকানায় চলে যায়।
এভাবে আশিক তিন চাপে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের ছবি বাইরে জালিয়াতি চক্রের কাছে পাঠানোর চেষ্টা করছিল। তার কাজই হচ্ছে জালিয়াতি চক্রের কাছে ছবি পাঠানো। আর ওই জালিয়াতি চক্র হয়তো প্রশ্নপত্রের সমাধান করে অন্য কোনো পরীক্ষার্থীদের উত্তর পাঠানোর চেষ্টা করতো।’
তিনি আরো বলেন, ‘আশিক বিভিন্ন শিক্ষার্থীর রোল নম্বর ব্যবহার করে একাধিক ফরম তুলেছে। কিন্তু তিনি প্রত্যেক ফরমেই নিজের ছবি ব্যবহার করেছেন। আমরা আগে থেকেই এটা নজরে এনেছিলাম। কিন্তু এর আগে আশিক যে পরীক্ষাগুলো দিয়েছে সেগুলো ধরতে পারিনি। চতুর্থ বিজ্ঞান ভবনে ‘এইচ’ ইউনিটে সাড়ে ৩টায় পরীক্ষা দিতে গেলে তাকে ধরে ফেলি।’
আশিক প্রতি পরীক্ষার জন্য ১০ হাজার টাকার চুক্তি করেছিলেন বলে জানান উপ-উপাচার্য। তবে আশিক কাদেরকে এই ছবিগুলো পাঠাচ্ছিল তা এখন উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি বলে জানান উপ-উপাচার্য চৌধুরী সাওয়ার জাহান।
আটক আশিকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ সম্পর্কে উপ-উপাচার্য বলেন, ‘আশিককে ভ্রাম্যমাণ আদালতে সাজা না দিয়ে পুলিশের কাছে তুলে দেয়া হবে। মতিহার থানায় তার বিরুদ্ধে মামলা করার জন্য প্রস্তুতি চলছে।’





