দীর্ঘ ১৪৬০ দিন পর বাঘের শূন্যতা পূরণ করলো চট্টগ্রাম চিডিয়াখানা।দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে কেনা রয়েল বেঙ্গল টাইগার প্রজাতির একটি বাঘ ও একটি বাঘিনী চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় এসে পৌঁছেছে ।
শুক্রবার (৯ নভেম্বর)বাঘ দুটিকে বহন করা ট্রাকটি চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় এসে পৌঁছায়।এর ফলে চার বছর পর বাঘের অভাব ঘুচতে যাচ্ছে চিড়িয়াখানায়।
বৃহস্পতিবার বাঘ দুটি আফ্রিকা থেকে কাতার হয়ে বিমানযোগে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আনা হয়।এরপর সড়কপথে বাঘ বহনকারী ট্রাকটি চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানার উদ্দেশ্যে রওনা দেন।
চিড়িয়াখানায় বাক্সবন্দী বাঘ দুটিকে প্রথমে ছোট্ট একটি লোহার খাঁচায় রাখা হয়।পরে দুপুর সোয়া ১২টার দিকে জেলা প্রশাসক মো. সামসুল আরেফিন এসে বাঘ দুটিকে দর্শকদের জন্য বড় খাঁচায় উন্মুক্ত করে দেন।
চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানার ডেপুটি কিউরেটর ডা. মঞ্জুর মোর্শেদ জানান,২০০৪ সালে ঢাকা চিড়িয়াখানা থেকে পূর্ণিমা ও চন্দ্র নামে দুটি বাঘ আনা হয়েছিল চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায়।
২০০৯ সালে চন্দ্র মারা যায়। তিন বছর পর ২০১২ সালের ৩০ অক্টোবর রোগাক্রান্ত হয়ে মারা যায় পূর্ণিমা।এরপর থেকে খালি পড়েছিল চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানার বাঘের খাঁচা।
বাঘ ও বাঘিনী চেয়ে ঢাকা চিড়িয়াখানা ও ডুলাহাজরা সাফারি পার্ক কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেয়া হয়েছিল। কিন্তু তাতে সাড়া মেলেনি।সাড়া না মেলায় চলতি বছরের ২৫ জুন চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানার নির্বাহী কমিটির সভায় প্রাণি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অনুমতি সাপেক্ষে নিজেরাই বাঘ কেনার সিদ্ধান্ত নেয়।
মন্ত্রণালয়ের অনুমতি পাবার পর দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে দুটি বাঘ কেনার জন্য চলতি বছরের ১৯ আগস্ট আর্ন্তজাতিক দরপত্র আহ্বান করা হয়। চারটি প্রতিষ্ঠান বাঘ আমদানির আগ্রহ প্রকাশ করে দরপত্রে অংশ নেয়। সর্বনিম্ন ৩৩ লাখ টাকায় গত ২৬ সেপ্টেম্বর বন্যপ্রাণী আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ফেলকন গ্রুপকে কার্যাদেশ দেয় চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ।
বাঘ কেনার পুরো টাকা চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানার তহবিল থেকে দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডা. মঞ্জুর মোর্শেদ।
মাসুম/জারিফ





