পিরোজপুর সদর উপজেলার ভৈরমপুর এলাকায় পুলিশের গুলিতে ডাকাত সন্দেহে শহিদুল নামে এক বিএনপির কর্মী আহত হয়েছেন। এসময় মেহেদী হাসান নামে এক পুলিশ সদস্যও আহত হয়েছেন। তবে পুলিশ দাবি করছে গুলিবিদ্ধ শহিদুল ডাকাত দলের সদস্য।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার ভোরে শহিদুল ইসলাম শেখ চা-চিনি কেনার জন্য বাড়ির কাছের জলিল শেখের দোকানে যায়। দোকানের আশপাশে আগে থেকেই সাদা পোশাকে পুলিশ ছিল।

আটক আশ্রাফ আলী ডাকাতের ভাই রফিক শেখকে গ্রেফতারের জন্য ওই এলাকায় পুলিশ অভিযান চালায়। এসময় পুলিশকে গুলি লোড করতে দেখে ভয়ে দৌড় দেয় শহিদুল। পুলিশ তাকেধরে পেটে গুলি করে। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পুলিশ তাকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, শহিদুলের পেটে ৫ রাউন্ড রাবার বুলেট রয়েছে। পরে তাকে গুরুতর অবস্থায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

গুলিবিদ্ধ শহিদুলের ভাই রাজেদুল শেখ বলেন, ‘আমার ভাই ঢাকায় ফলের ব্যবসা করেন। জমিতে চারা রোপণের জন্য বাড়ি এসেছিল। সকালে চা-চিনি আনার জন্য দোকানে গেলে সেখানেই পুলিশ তাকে গুলি করে। ভাই গুলিবিদ্ধ হবার পর পুলিশ আমাদের শাসাচ্ছে। যেন এ বিষয়ে সাংবাদিকদের কাছে মুখ না খুলি। মুখ খুললে আমাদেরও নাকি মামলা দিয়ে থানায় ভরে দিবে।’
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রাজ্জাক জানান, আশ্রাফ ডাকাতের ভাই রফিকসহ ৭/৮ জনের একটি দল ভোরে পিরোজপুর-নাজিরপুর সড়কের জুজুখোলা নামক স্থানে ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এসময় পুলিশ তাদের ধাওয়া দিলে ডাকাতদল পুলিশের উপরে গুলি চালায়।

ওসি জানান, ওদের গুলিতে মেহেদি হাসান নামে এক পুলিশ সদস্য আহত হন। এ সময় বাধ্য হয়ে পুলিশ গুলি করে। রফিক পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। তবে ডাকাত দলের সদস্য শহিদুল গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পরে। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নিয়ে আসে। আহত শহিদুলের পকেটে গুলি পাওয়া গেছে।

ওসি আরও জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশের একাধিক টিম রয়েছেন। এরা চিহিৃত সন্ত্রাসী। পুলিশ বাদী হয়ে এদের বিরুদ্ধে থানায় মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

ঢাকা, ২২ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, জেআই