বছরে দুইটা খুশির ঈদ পালন করে বিশ্ব মুসলিম সম্প্রদ্বায়। এক অথবা দুদিন পরেই আসছে সেই খুশির অন্যতম একটি ঈদুল ফিতর।

তাই নাড়ির টানে সবাই বাড়ির দিকেই ছুটছে। কিন্তু ফাঁকা শহর ঢাকাকে নিরাপত্তা দিতেই থেকে যেতে হচ্ছে অনেক পুলিশ সদস্যের।

পেশাগত কারণে ইচ্ছে থাকলেও পরিবারের সঙ্গে ঈদ করার সৌভাগ্য হয় না অধিকাংশ পুলিশের। নাগরিকদের ঈদ নির্বিঘ্ন করতে সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকেন তারা। ফলে অন্যদের সেবাটা নিশ্চিত করার মধ্যদিয়েই তাদের ঈদ আনন্দ খুঁজে নিতে হয়।

রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বৃহস্পতিবার ঘুরে দেখা যায়, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় এবং টহলরত অবস্থায় দায়িত্ব পালন করছে পুলিশ সদস্যরা। তাদের সঙ্গে কথা বলে দায়িত্বের মধ্যে থেকে ঈদ উদযাপন করার অভিজ্ঞতা জানার চেষ্টা করেন টাইমনিউজবিডির প্রতিবেদক।

রাজধানীর কলেজগেটের মোড়ে দ্বায়িত্বরত মোহাম্মাদপুর থানার সহকারি উপ-পরিদর্শক (এএসআই) রবিউল আলম টাইমনিউজবিডিকে বলেন, আমি আমার বাবার বড় ছেলে। তাই ঈদের সকল আয়োজন আমাকেই করতে হয়। তবে দু:খের বিষয় হলো এবার ঈদে আমার যাওয়া হবে না।

দায়িত্ব পালনে ঈদের কষ্টের কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, চাকরির প্রাথমিক সময়ে প্রচন্ড কষ্ট হতো। তখন বাড়ির কথা মনে পড়লে হাউমাউ করে কাঁদতাম। এখন অনেকটা সঁয়ে গেছে। পেশাগত দ্বায়িত্বের কারণে অনেক কিছুই ত্যাগ করতে হয়। তবে ঈদের সময় একটু বেশিই দ্বায়িত্ব পালন করতে হয়।

তিনি বলেন, গতবছর কোরবানির ঈদে বাড়ি যেতে পারিনি। বাসার সবাই কান্নাকাটি করেছিলো। তাই এবার সিদ্ধান্ত নিয়েছি কোরবানিতে যাবো। তবে কোরবানির ঈদে শেষ পর্যন্ত যাওয়া হবে কিনা এমন নিশ্চয়তা নেই দাবি করে তিনি বলেন, দেশে যদি আবার কোন রকম অস্থিরতার কিছু ঘটে তাহলে আর যাওয়া হবে না।

শ্যামলী শিশু মেলা মোড়ে শেরে বাংলানগর থানার সহকারি উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মো. শাহাদাৎ হোসেন টাইমনিউজবিডিকে বলেন, আমার ষোল সতের বছরের চাকরি জীবনে অনেকবার রাস্তাঘাটে ঈদ কাটিয়েছি। দায়িত্ব এবং জীবনের প্রয়োজনে অনেক কিছুই ত্যাগ করতে হয়।

তিনি বলেন, ঈদ আনন্দের একটা বয়স থাকে। এখন বয়সের তাড়নায় সব কিছু সঁয়ে গেছে। তারপরও একটু দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, আমরাতো রক্ত-মাংসেরই মানুষ। কষ্টতো হবেই। কিন্তু উপার্জনের তাগিদে চাকরিও তো করতে হবে।

আগারগাঁও বাংলাদেশ বেতারের সামনে দ্বায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তা শেরে বাংলানগর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সঞ্জিত কুমার ঘোষ টাইমনিউজবিডিকে বলেন, আমরা তো হিন্দু তাই ঈদে আমাদের কোন ছুটি নাই।

তবে গত কয়েক বছরের তুলনায় এ বছর একটু সাচ্ছন্দে ছুটি পাওয়া যাচ্ছে দাবি করে তিনি বলেন, অন্যান্য বছরে রাজনৈতিক বিভিন্ন ঝামেলা থাকার করণে ছুটি পাওয়া যায়না। তবে এবার সেদিক থেকে এ বছর একটু সিথিলতা আছে।

ঈদে দায়িত্ব পালনের ব্যাপারে তিনি বলেন, ঈদের ছুটিতে পুলিশের জনবল একটু কমে যাওয়ায় আমাদের একটু বেশিই সময় দেওয়া লাগে। তবে ঈদের দিন রাস্তা-ঘাট ফাঁকা থাকার কারণে ওই ‍দিন একটু আরামেই দায়িত্ব পালন করা যায়।

কলেজগেট মোড়ে ট্রাফিক পুলিশের দায়িত্বে থাকা ট্রাফিক পশ্চিম বিভাগের মোহাম্মাদপুর জোনের কনস্টেবল মো. ইলিয়াস হোসেন টাইমনিউজবিডিকে বলেন, এ ঈদে ছুটি পাইনি তবে সামনের কোরবানি ঈদে পাবো কিনা তাও বলতে পারছি না।

তবে ঈদে বেশি সময় দ্বায়িত্ব পালন করলেও আরামে পালন করা যায় উল্লেখ করে এই কনস্টেবল বলেন, ঈদের সময় গাড়ির চাপ কম থাকে তাই একটু আরামেই কাটানো যায়।

তবে দায়িত্ব পালনের জন্য মাঠে অবশ্যই থাকতে হয়। যখন কোন ভিআইপি বা প্রধানমন্ত্রী আসে তখন একটু রাস্তায় দাঁড়াতে হয় বলেও জানান তিনি।

এমআর/এসএইচ