কোরবানীর পশুর চামড়া ব্যবসার সফল হলেও পশুর বিভিন্ন অংশের হাড় দিয়েও যে ব্যবসা করা যায় তা অনেকের অজানা। সম্প্রতি পশুর বিভিন্ন অংশের হাড়ের চাদিহা ও বাড়ছে। শুধু দেশে নয় বিদেশেও জামা কাপড়ের বোতাম বানাতে, ওষুধ ও সিরামিক শিল্পে কাঁচামাল হিসেবে পশুর বিভিন্ন অংশের হাড়ের চাহিদা বাড়ছে। কোরবানীর পশুর এসব ফেলে দেওয়া হাড় বিক্রি হচ্ছে কোটি টাকা মূল্যে।
ব্যবসায়িরা বলছেন, আবর্জনা হিসেবে ফেলা দেওয়া গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়ার হাড় থেকে শুরু করে শিং, অণ্ডকোষ, নাড়িভূঁড়ি, মূত্রথলি, চর্বি বিভিন্ন পণ্যের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। আর এসব হাড় বিদেশেও রপ্তানি করা হচ্ছে।
চীন, থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশে এসব হাড়ের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে বলেও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়িরা।
পুরান ঢাকার হাড় ব্যবসায়িদের সাথে কথা বলে যায়, বছর দশেক আগে রাজধানী হাজারীবাগের কয়েকজন ব্যবসায়ি এই হাড় ব্যবসা শুরু করেন। তখন আসলে দেশের অনেকেরই এই ব্যবসা সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা ছিল না। তখনই বেশ লাভজনক ব্যবসা পেতে বসেন পুরান ঢাকার কিছু ব্যবসায়ি। পরবর্তিতে তাদের দেখাদেখি অনেকেই এসব উচ্ছিষ্টের বাণিজ্য শুরু করেন। যা বর্তমানে শিল্পে রুপ নিয়েছে।
বর্তমানে হাজারীবাগসহ সারাদেশেই ছড়িয়ে পড়েছে এই হাড়ের ব্যবসা। রাজধানী ছাড়াও দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে হাড় সংগ্রহ করে তা হাজারীবাগের কারখানাগুলো নিয়ে আসা হচ্ছে। গরু, মহিষ ও ছাগলের এসব হাড় টাকা দিয়েই সংগ্রহ করেন ব্যবসায়িরা।
মোহাম্মদপুর বেড়িবাধ এলাকার হাড় ব্যবসায়ী আব্দুল মোমেন বলেন, লোক দিয়ে কেজি প্রতি ৪ টাকা বাসাবাড়ি থেকে হাড় সংগ্রহ করি। পরে ৬ থেকে ৮ টাকা দরে ব্যাপারীদের কাছে বিক্রি করি।
তিনি বলেন, এখন আর আগের মত ব্যবসা নাই। কয়েক বছর আগেও আমরা কয়েকজন মিলে হাড় সংগ্রহ করতাম। বর্তমানে অনেকেই এ ব্যবসা শুরু করেছে। আগে ৪ থেকে ৫ টন হাড় সংগ্রহ করতাম। গত দু’বছর ২ টনের বেশি কিনতে পারি না।
জানা যায়, জবাইয়ের পর গরুর আকার ভেদে ১৫ থেকে ২৫ কেজি হাড় ফেলা দেওয়া হয়। আর এই হাড় সংগ্রহ করে প্রতিদিন ব্যবসা হয় অন্তত ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকা।
ব্যবসায়িরা জানান, হাড় দিয়ে ওষুধ, সিরামিক পণ্য, বোতাম ও ঘর সাজানোর নানা উপকরণ তৈরি করা হয়। এছাড়াও বিভিন্ন দেশে খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয় নাড়িভুঁড়ি।
হাজারীবাগের পাইকারি হাড় ব্যবসায়ি আব্দুল রহিম মিয়া জানান, সরকারি পৃষ্ঠোপোষকতা পেলে পশুর এসব হাড় রপ্তানি করে শত কোটি টাকা বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব।
তিনি আরো বলেন, অসচেতনতা আর অবহেলার কারণে কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে দেশ। আন্তর্জাতিক বাজারে হাড়ের চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
গত বছর ৬০ টন হাড় কিনলেও চাহিদার কথা বিবেচনা করেই এ বছর টার্গেট করেছি ৮০ টন হাড় কেনার।
জেইউ





