রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) বাংলা বিভাগে 'অপহৃত' ছাত্রীকে উদ্ধারের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবন ঘেরাও করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মেয়েদের হলগুলো (পশ্চিমপাড়া) থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন শিক্ষার্থীরা।
পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে নিজেদের নিরাপত্তা ও অপহৃত ছাত্রীর উদ্ধার দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
এসময় ছাত্রীরা বলেন, 'আজ আমাদের বান্ধবি অপহৃত হয়েছেন। কাল আমি বা অন্য কেউ অপহৃত হবে না তার গ্যারান্টি কি? বিশ্ববিদ্যালয়ে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। প্রক্টরিয়াল বডি তাহলে শিক্ষার্থীদের কি নিরাপত্তা প্রদান করছেন?
আমাদের দাবি অতি দ্রুত আমাদের বান্ধবিকে খুঁজে বের করা হোক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক।'
আন্দোলনের এক পর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুস সোবহান শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, 'বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ঘটনা শোনার পর থেকেই তৎপরতার সাথে কাজ করছে।
যদিও এটা পারিবারিক ব্যাপার তারপরও পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার সাথে কথা বলে ইতিমধ্যে সব জায়গা বিষয়টি জানানো হয়েছে। আশা করি দ্রুততর সময়ের মধ্যেই ওই শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করা সম্ভব হবে।'
পরে বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে অপহৃত শিক্ষার্থীর বাবা আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, 'এমনভাবে অপহরণের ঘটনায় আমরা উদ্বিগ্ন। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সাথে আমাদের কথা হয়েছে। তারা সর্বোচ্চ তৎপর রয়েছেন।
আমরা তাদের উপরই ভরসা করছি। আশা করছি দ্রুত সময়ের মধ্যেই আমার মেয়েকে ফিরে পাবো।'তবে উপাচার্য এবং অপহৃত শিক্ষার্থীর বাবার আশ্বাসের পরেও শিক্ষার্থীরা আন্দোলন অব্যাহত রাখেন।
সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলছিল। তারা বিকেল ৫টায় অপহৃত ছাত্রীর উদ্ধারের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে দু’ঘণ্টার আলটিমেটাম দেন। অন্যথায় আরো বৃহৎ আন্দোলন করা হবে বলেও হুশিয়ারি দেন।
এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের প্রায় চার শতাধিক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।এর আগে শুক্রবার সকাল সোয়া ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা হলের সামনে থেকে ওই ছাত্রীকে অপহরণ করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার সকালে চতুর্থ বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য তাপসী রাবেয়া হল থেকে তার দুই বান্ধবীসহ বের হন ওই ছাত্রী। পরে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা হলের সামনে পৌঁছুলে তিন যুবক ওই ছাত্রীর পথরোধ করে।
এ সময় তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে তাকে জোরপূর্বক একটি প্রাইভেট কারে উঠিয়ে নিয়ে যায় তারা। এসময় ওই দুই শিক্ষার্থী চিৎকার করলে হল থেকে কিছু শিক্ষার্থী বের হয়ে আসেন।
ততক্ষণে ওই ছাত্রীকে তুলে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।অপহৃত শিক্ষার্থীর সাথে থাকা দুই সহপাঠী জানান, কথা কাটাকাটির বিষয় শুনে মনে হয়েছে তারা পূর্ব পরিচিত।
রাবি প্রক্টর অধ্যাপক ড. লুৎফর রহমান বলেন, ''আমরা জেনেছি গত বছরের ডিসেম্বরে ওই মেয়ের বিয়ে হয়। দুই মাস আগে সে তার স্বামীকে ডিভোর্স দেয়। তবে তার স্বামী ডিভোর্স চাচ্ছে না বলে আজ সকালে দেখা করতে আসে।
এ সময় তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে তাকে নিয়ে যায় সে। তাদের খুঁজে বের করার জন্য আমি পুলিশকে জানিয়েছি।'
মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, 'বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আমাদের জানিয়েছেন তারা স্বামী-স্ত্রী। তার সাবেক স্বামীই নাকি তাকে নিয়ে গেছে। প্রাথমিকভাবে আমাদের বলা হয়েছে তাদের খোঁজাখুঁজি করতে।
আমরা সব জায়গায় খবর দিয়েছি।'এদিকে, ছাত্রী অপহরণ হলেও চতুর্থ বর্ষের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়নি। সকাল ৯টা থেকেই পরীক্ষা শুরু হয়।
এ বিষয়ে বাংলা বিভাগের পরীক্ষা কমিটির সভাপতি অধ্যাপক খন্দকার ফরহাদ হোসেন বলেন, "পরীক্ষা দিতে আসার সময় তার 'স্বামী' এভাবে তাকে তুলে নিয়ে গেছে বিষয়টি খুব দুঃখজনক। এমন সমস্যার বিষয়টি আগে থেকে আমাদের জানানো হলে আমরা তার নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতাম।"
তিনি আরও বলেন, একজন শিক্ষার্থীর জন্য বাকি ৯৯ জন শিক্ষার্থীর পরীক্ষা স্থগিত করা যুক্তিযুক্ত মনে হয়নি। কেন না সে সামনের বছর আবার পরীক্ষা দিতে পারবেন।'
এমএ





