জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভ্যাট সংক্রান্ত গোপন প্রতিবেদন রবিবার রাতে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতের সরকারি বাসভবনে পাঠিয়েছে। ভ্যাট সংক্রান্ত চলমান বিতর্কের সুরাহা করতেই এই গোপন প্রতিবেদন পাঠানো হয়।

এনবিআরের সূত্র জানায়, গোপন ওই নথিপত্রে বিশ্বের কোন কোন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ভ্যাট দেয়, তার তথ্য রয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে কত শতাংশ ভ্যাট আদায় করা সম্ভব এবং তা থেকে সরকার কী পরিমাণ রাজস্ব পেতে পারে তারও উল্লেখ রয়েছে।

গোপন ওই প্রতিবেদনে ভ্যাট আইনের ব্যাখ্যা করে এনবিআর সুপারিশ করেছে যে শিক্ষার্থী নয় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষই ভ্যাট দিবে। গোপন এই প্রতিবেদনটি অর্থমন্ত্রী সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কাছে নিয়ে যাবেন বলে জানা গেছে।

ওই সূত্রে আরও জানা গেছে, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আয়করের তথ্য জানাতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) নির্দেশনা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত।

অর্থমন্ত্রীর নির্দেশনা পাওয়ার পর প্রাথমিকভাবে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গত ১৫ বছরের কর সংক্রান্ত তথ্য প্রস্তুত করা হয়েছে। শিগ্‌গিরই এগুলো অর্থমন্ত্রীর কাছে প্রতিবেদন আকারে পাঠানো হবে। এর সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আয়করের কী কী সুবিধা ভোগ করছে সেই তালিকাও পাঠানো হবে।

এনবিআরের তথ্যমতে, গত ১৫ অর্থবছরে ৬৬টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ৪৭ কোটি টাকা আয়কর দিয়েছে। ঢাকার ৫১টি বিশ্ববিদ্যালয় আয়কর দিয়েছে ৩৯ কোটি টাকা। আর ঢাকার বাইরের ১৫টি বিশ্ববিদ্যালয় আয়কর দিয়েছে ১৮ কোটি টাকা। এ সব বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর আয়কর ধার্য করা হয়েছিল ১২৩ কোটি টাকা।

সূত্র আরও জানায়, ভ্যাট নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হওয়ায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের করহারে পরিবর্তন করা হবে। এ ছাড়া বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর দাখিল করা আয়কর রিটার্ন খতিয়ে দেখতে কর সার্কেল ও সিআইসি (কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল) কাজ করছে।

প্রসঙ্গত, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ১৫ শতাংশ হারে আয়কর দিয়ে থাকে। ২০১৫-১৬ অর্থবছরের বাজেটে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে টিউশন ফির মধ্যে সাড়ে ৭ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করায় বৃহস্পতিবার থেকে আন্দোলনে নামে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবিতে রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক অবরোধ করে রাখায় অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। যদিও এনবিআরের পক্ষ থেকে দুটি আইনী ব্যাখ্যার মাধ্যমে বলা হয়েছে, শিক্ষার্থীরা নয়; ভ্যাট দেবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

এনবিআরের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, নতুন করে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায়ের উদ্দেশ্যে ভ্যাট আরোপ করা হয়নি। বিদ্যমান টিউশন ফির মধ্যে ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এ অর্থ পরিশোধ করার দায়িত্ব বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের, শিক্ষার্থীদের নয়। তাই টিউশন ফি বাড়ার কোনো সুযোগ নেই। সূত্র: অনলাইন

এএইচ