ফেলানী হত্যার পাঁচ বছর সীমান্তের কাঁটাতারে ঝুলে থাকা কিশোরী ফেলানীর মৃতদেহের ছবিটা এখনো সীমান্ত হত্যার প্রতীক। এ ঘটনার পর সারা দেশে নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। তখন ভারতের পক্ষ থেকে এ ঘটনার ন্যায়বিচারের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। তবে গত পাঁচ বছরেও ফেলানী হত্যাকারীর শাস্তি হয়নি।
ফেলানী হত্যার পরে সীমান্তে হত্যা বন্ধ নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে অনেক আলোচনা হলেও সীমান্তে হত্যা বন্ধ হয়নি। ২০১৫ সালে সীমান্তে বিএসএফের গুলি ও নির্যাতনে ৪৬ জন বাংলাদেশি নিহত হন। ২০১০ থেকে ২০১৫ পর্যন্ত গত ছয় বছরে অন্তত ২৩৬ জন বাংলাদেশিকে হত্যা করেছে বিএসএফ। বেসরকারি সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের ছয় বছরের বার্ষিক মানবাধিকার প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। বিএসএফের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে প্রাণঘাতী অস্ত্র না ব্যবহারের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল।
আমাদের কলকাতা প্রতিনিধি জানান, ২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার অনন্তপুর সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া পার হওয়ার সময় বিএসএফের সদস্য অমিয় ঘোষের গুলিতে নিহত হয় কিশোরী ফেলানী। ফেলানী হত্যায় অভিযুক্ত বিএসএফের জওয়ান অমিয় ঘোষের দুই দফা বিচার হয়েছে বাহিনীর নিজস্ব কোর্টে। দুবারই অমিয় ঘোষকে নির্দোষ ঘোষণা করেন ওই কোর্ট। এখন রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন জানিয়ে ফেলানীর বাবা নুরুল ইসলাম ও ভারতের মানবাধিকার সংস্থা মানবাধিকার সুরক্ষা মঞ্চ (মাসুম) ভারতের সুপ্রিম কোর্টে একটি রিট মামলা করেন। সেই মামলার শুনানি এখনো শুরুই হয়নি।
গতকাল বুধবার যোগাযোগ করা হলে কলকাতার মাসুমের একজন কর্মকর্তা বলেন, সুপ্রিম কোর্ট থেকে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মুখ্যসচিব, বিএসএফের মহাপরিচালক ও সিবিআইয়ের পরিচালককে নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
আমাদের কুড়িগ্রাম অফিস জানায়, ফেলানীর বাবা নুরুল ইসলামের আইন সহায়তাকারী ও কুড়িগ্রামের সরকারি কৌঁসুলি আব্রাহাম লিংকন বলেন, পাঁচ বছর হয়ে গেল, এখনো ন্যায়বিচার না পেয়ে ফেলানীর বাবা ভারতের সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন। তাঁর রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট ফেলানী হত্যা মামলার শুনানির তারিখ নির্ধারণ করলেও বেঞ্চ পুনর্গঠনের কারণে আবারও পিছিয়ে গেছে বিচারিক কার্যক্রম।
মেয়ে হত্যার বিচার পাবেন কি না, তা নিয়ে সংশয়ে ফেলানীর বাবা নুরুল ইসলামও। গতকাল তিনি বলেন, ‘বিচার পামু কি না, তা নিয়া চিন্তায় আছি। আমরা গিয়া সাক্ষী দিয়া আসলাম। বিএসএফের কোর্টে বিচার পাই নাই। এখন সুপ্রিম কোর্টে গেছি। পাঁচ বছর হয়ে গেছে। কিন্তু আমরা আশা ছাড়িনি।’ ফেলানীর মা জাহানারা বেগম আইন-আদালত এত কিছু বোঝেন না। গতকাল মুঠোফোনে কথা বলার সময় বারবারই তিনি বিএসএফ জওয়ান অমিয় ঘোষের ফাঁসির দাবি করছিলেন আর মেয়ের জন্য কাঁদছিলেন।
জানতে চাইলে সাবেক পররাষ্ট্রসচিব মো. তৌহিদ হোসেন বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে সীমান্তে আমাদের যুদ্ধ না চললেও মানুষকে প্রাণ দিতে হচ্ছে। বিচ্ছিন্নভাবে এসব হত্যার ঘটনা ঘটছে—এমনটা ভাবার কোনো কারণ নেই। এ ব্যাপারে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের অবস্থানের পরিবর্তন না হলে সীমান্ত হত্যা বন্ধ হবে না। কাজেই ফেলানী হত্যার পাঁচ বছর পেরিয়ে গেলেও বিচার হবে না, এটাই তো স্বাভাবিক।’ তথ্যসূত্র: প্রথম আলো।
এআই





