দীর্ঘ ২০ বছর পর যশোরের শার্শা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বেতনা নদীটি দখলমুক্ত করতে মাঠে নেমেছে উপজেলা প্রশাসন। প্রভাবশালী মহল দীর্ঘ ২০ বছর যাবত সরকারি এ বেতনা নদীর বিভিন্ন স্থানে ভেঁড়িবাধ ও পাটা-বাঁধা দিয়ে জোর করে মাছ চাষ করে আসছে। এর ফলে নদী দিয়ে পানি বের হতে না পেরে গোটা শার্শা ও বেনাপোলের কয়েকটি গ্রাম পানিতে প্লাবিত হয়ে পড়ে।
এ ছাড়া প্রতি বছর ভারত থেকে ইছামতি নদীর পানি উপচে ও বর্ষার পানিতে প্লাবিত হয় এলাকার শত শত একর ফসলের মাঠ। ক্ষতিগ্রস্ত হয় চাষিরা। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে শার্শা উপজেলা প্রশাসন উচ্ছেদ অভিযান শুরু করেছে। সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে ভেঁড়িবাধ ও পাটা। সোমবার ও মঙ্গলবার স্বেচ্ছায় শতাধিক শ্রমিক এ কাজে অংশ নেন। দখলদারদের কাছ থেকে দখলমুক্ত করতে প্রশাসনকে সহযোগিতা করেছেন স্থানীয় জনতা।
আমিষের চাহিদা মেটাতে ১৯৯৬ সালে উন্মুক্ত জলাশয়ে মাছের পোনা ছেড়ে বেতনা নদীটি আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মুক্ত করে উপজেলা প্রশাসন। ৪০ কিলোমিটার এ বেতনা নদীটি প্রথম বছর উন্মুক্ত থাকলেও পরে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় শতাধিক ব্যক্তি অবৈধভাবে দখল করে ৬৬ স্থানে ভেঁড়িবাধ ও পাটা দিয়ে মাছ চাষ করতে শুরু করে। বর্ষাকালে ভেঁড়ি বাধ ও পাটা দেওয়ার ফলে পানি নিষ্কাশন হতে না পারায় প্লাবিত হয় এলাকা। চাষিরা কষ্টের ফসল ঘরে তুলতে না পেরে বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করলে দীর্ঘদিন পর এ অভিযান শুরু হয়।
দখলদারদের অবৈধভাবে ভেঁড়ি বাধ ও পাটা দিয়ে মাছ চাষ বন্ধের জন্য সরকারিভাবে নোটিশ করলেও তারা কর্ণপাত করেননি। অভিযানে মাটি ও পাটা বাধ খুলে দেওয়া, পাটা ও জাল জব্দ, জব্দকৃত জাল ও পাটা পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। অভিযানে অংশ নেওয়া এলাকার চাষিরা বলেন, দীর্ঘদিন পর বেতনা নদী মুক্ত হলে এলাকার মানুষ বন্যা ও প্লাবন থেকে মুক্ত থাকবে।
শার্শা উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুস সালাম সাংবাদিকদের জানান, দীর্ঘদিন ধরে বেতনা নদীটি অবৈধভাবে দখল করে মাছ চাষ করে আসছে প্রভাবশালী একটি মহল। অবৈধ দখলমুক্ত করার জন্য অভিযান শুরু হয়েছে। দখলমুক্ত হলে এলাকার মানুষ উপকৃত হবে। প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্য বাস্তবায়িত হবে। দখলমুক্ত করতে কেউ বাধা দিলে তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে বলে তিনি জানান।
তরিকুল ইসলাম তারেক





