রেমিটেন্সের কারণে সরকারের নীরব সম্মতিতেই বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন দেশে মানবপাচার চলছে অভিযোগ করেছেন রিফিউজি এন্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্ট রিসোর্স ইউনিট (রামরু) এর পরিচালক প্রফেসর তাসনিম সিদ্দীকি।
রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবে সেন্টার ফর নন রেসিডেন্ট বাংলাদেশীজ আয়োজিত 'হিউম্যান ট্রাফিকিং- বাংলাদেশীজ প্রিপারেন্ডস' শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।
তাসকিন সিদ্দিকী বলেন, সরকারকে এ বিষয়ে আমরা আগেই বলেছিলাম, এমনকি গণমাধ্যমেও আগে এসেছিল। আসলে সবাই দায়িত্ব পালন করেছে, কেবল সরকার তার জায়গায় নেই। আমরা আন্ত:মন্ত্রণালয়ে বিভিন্ন সময়ে এ বিষয়ে কথা বলেছি। তারা বলেই ফেলেছেন যাক না, রেমিটেন্স তো আসবে। কিছু মরলেও কিছু তো বাঁচবে। তারা রেমিটেন্স পাঠাবে। এটা তাদের নীরব সম্মতি।
তিনি বলেন, স্বত:স্ফুর্তভাবে মানুষ বিদেশ যাচ্ছে না। তাদের লোভ দেখিয়ে, ব্রেইনওয়াশ করে পাঠানো হচ্ছে। কিন্তু তারা আর ফিরছে না। এর সাথে জড়িত পুলিশ, জনপ্রতিনিধিরা। এদের নামও চলে এসেছে। এরা রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট দিচ্ছেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েও এদের তালিকা এসেছে, কিন্তু সরকারই আবার তাদের রক্ষা করছে।
তিনি আরও বলেন, মানবপাচারের জন্য থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়া ব্যবস্থা নিয়েছে। বাংলাদেশ ক্রসফায়ার করছে নিম্নপর্যায়ের দালালদের। তারা দালালদের ধরছে না, কারণ তাতে উপরের ব্যক্তি চলে আসবে।
তিনি বলেন, আমাদের আইনেও ঝামেলা রয়েছে। কথা হচ্ছে, কোন আইনে ব্যবস্থা নিবেন? এক আইনে ধরা হচ্ছে আবার অন্য আইনে তাদের ছেড়ে দিচ্ছি। আবার ইচ্ছে করেই এসব অপরাধ অজামিনযোগ্য করা হচ্ছে না। এসবের সাথে সরকারের নীতিনির্ধারকরাও জড়িত। তারা রোহিঙ্গাকে দায়ী করছে, কিন্তু জড়িত জনপ্রতিনিধিদের করছে না।
সমস্যা সমাধানের বিষয়ে তিনি বলেন, এসব প্রতিরোধে সরকারের সমাধান অনেকটা ইগোয়েস্টিক। এটা প্রকৃত সমাধান না। বুঝতে হবে, ক্লাইমেট চেঞ্জের জন্য মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছে। তাদের কর্মসংস্থান নেই। আবার তাদের ঢাকায়ও ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না, কারণ তারা নাকি চুরি করবে। দ্রুত আন্ত:কর্মসংস্থানের সমন্বয় করতে না পারলে বিদেশিরা সুযোগ নিবে। কারণ দেশে কাজ না থাকলেও তো তাদের ফাঁদ পাতার সুবিধা বাড়বেই।
গোলটেবিল বৈঠকে লায়ন্স ক্লাব ইন্টারন্যাশনালের সাবেক কাউন্সিল চেয়ারপার্সন শাহজাহান খাদেম বলেন, মানবপাচার রোধে লোকাল লেভেলে সচেতনতা বাড়াতে হবে। এছাড়া পাসপোর্ট ছাড়া কেউ যেন দেশে যাওয়া-আসা না করতে পারে সেটি নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাপাশি যে বিদেশিরা এসব অপরাধে জড়িত তাদের শাস্তি নিশ্চিত সংশ্লিষ্ট দেশের সাথে যোগাযোগ বাড়াতে হবে।
গোলটেবিলে আরও বক্তব্য রাখেন আয়োজক সংগঠনের চেয়ারপার্সন শেকিল চৌধুরী, মো: জাহাঙ্গীর প্রমুখ।
এমএ/ এআর





