চাঁপা হত্যাকারীর দণ্ড মওকুফের তৎপরতার প্রতিবাদে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ডা.ফওজিয়া মোসলেম বলেন, আমরা খুবই উদ্বিগ্ন ও চিন্তিত। কারণ এর ফলে সহিংসতা আরো বাড়বে।
বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ বরিশালের গৃহবধু ফৌজিয়া রহমান চাঁপার নৃশংস হত্যা মামলার আসামীর দণ্ড মওকুফের তৎপরতার প্রতিবাদে উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, এ ধরনের নৃশংস ঘটনায় সাজাপ্রাপ্ত অপরাধীর সাজা মওকুফ করলে নির্যাতনের শিকার পরিবার গুলো নিরাপত্তাহীনতার সম্মুখীন হবে।
আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা বাধাগ্রস্থ হবে মন্তব্য করে তিনি বলেন, নারী নির্যাতনকারীরা প্রশ্রয় পাবে যা সমাজের নিকট নেতিবাচক বার্তা বহন করবে।
তিনি বলেন, রাষ্ট্রের আইনকে বুদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে ২২ বছর পলাতক থাকার পর চাঁপা হত্যা মামলার সাজাপ্রাপ্ত প্রধান আসামি জহিরুল আলম কামাল ২০১১ সালে আত্মসমর্পন করে।
মামলার রায় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ২০০৫ সালে বাংলাদেশ সুপ্রীমকোর্টের আপীল বিভাগ চাঁপা হত্যা মামলার দীর্ঘ শুনানি শেষে জহিরুল আলম কামালের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ১০,০০০ টাকা জরিমানা। অনাদায়ে ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন। অপর দুই জন সহযোগী আসামী নাসির উদ্দিন জামাল ও খন্দকার জিল্লর বারীর ৭ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০,০০০ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন।
মামলা মনিটরিং করার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, চাঁপা হত্যার ঘটনায় ন্যায় বিচার নিশ্চিতকরণের দাবিতে আন্দোলন ও মামলায় আইনি সহায়তা প্রদান করছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ।
এছাড়া মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও মহামান্য রাষ্ট্রপতির নিকট দাবি জানাচ্ছি সাজা মওকুফ না করার জন্য এবং ঘটনার শিকার পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য। সাজা মওকুফ থেকে বিরত থাকার আহবান জানিয়ে তিনি মাননীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী, আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রীরও দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু, যু্গ্ম সাধারণ সম্পাদক রাখি দাস পুরকায়স্ত,মাকসুদা আক্তার লাইলি প্রমুখ।
উল্লেখ্য, বরিশাল বি এম কলেজের এম এস সি রসায়ন বিভাগের শেষবর্ষের ছাত্রী ফৌজিয়া রহমান চাঁপাকে ১৯৮৯ সালের ১৮ অক্টোবর দিবাগত রাতে তার স্বামী শহীদুল আলমের অনুপস্থিততে তার দেবর মাথায় আঘাত করে হত্যা করে।
এমএ/কেএইচ





