হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রীর ব্যাগ চুরির দায়ে এক আনসার সদস্যসহ দুজনকে কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

রোববার ভুক্তভোগী যাত্রী রাসেল চৌধুরীর অভিযোগের ভিত্তিতে আনসার সদস্য সাইফুল ইসলামকে এক মাস ও চুরির সঙ্গে জড়িত ক্যানোপি-১ এ জি-৯ নামে একটি রেন্টে কারের সহকারী সুপারভাইজার শাহিনকে ৩ মাসের কারদণ্ড প্রদান করেন বিমানবন্দরের ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট।

ভুক্তভোগী রাসেল চৌধুরী জানান, রোববার সকাল ৯টার দিকে ভারতে থেকে জেট এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে ঢাকায় আসেন তিনি। বিমানবন্দরের ১ নম্বর টার্মিনাল থেকে ক্যানোপিতে এসে তিনি গাড়িতে চড়ে বসেন। ক্যানোপি থেকে বের হওয়ার পর তার খেয়াল হয় হ্যান্ডব্যাগটি সঙ্গে নেই, ভুলক্রমে সেটি ফেলে এসেছেন তিনি। পরে ক্যানোপিতে ফিরে গেলে রাসেল চৌধুরী দেখেন, তার ব্যাগ হাওয়া। ক্যানোপি-১-এ সে সময় কর্মরত ছিলেন আনসার সদস্য সাইফুল ইসলাম।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাইফুল জানান- খোয়া যাওয়া ব্যাগটি একজন লোক নিয়ে বের হয়ে যেতে দেখেছেন তিনি। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও ব্যাগ খুঁজে না পেয়ে অবশেষে রাসেল চৌধুরী বিমানবন্দরের আর্মড পুলিশের কাছে এ বিষয়ে অভিযোগ করেন। পরে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে দণ্ড পাওয়া দুজনকে শনাক্ত করে আটক করে পুলিশ।

সিসি ক্যামেরার ফুটেজে পাওয়া চুরির দৃশ্যের বর্ণনা করে বিমানবন্দর সূত্র জানায়, রাসেল চৌধুরী তার ব্যাগটি ফেলে গেলে ওই রেন্টে কারের সহকারী সুপারভাইজর শাহিনকে ডেকে ব্যাগ সরিয়ে ফেলতে বলেন আনসার সদস্য সাইফুল। পরে আনসার সদস্যের সহযোগিতায় শাহিন ব্যাগটি তার নিজের বাসায় নিয়ে লুকিয়ে রাখেন। আটকের পরপরই অভিযুক্ত আনসার সদস্যকে চাকরিচুত্য করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতে সাইফুল ও শাহিনকে হস্তান্তর করা হয়।

আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ানের সহকারী পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান জানান, ভারতে থেকে আসা এক যাত্রীর অভিযোগের ভিত্তিতে দুজনকে আটক করা হয়। পরে বিমানবন্দরের ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে হাজির করা হলে আনসার সদস্য সাইফুল ইসলাম ও একটি রেন্টে কারের সহকারী সুপারভাইজার শাহিনকে কারদণ্ড দেন আদালত। বিকাল ৩টার দিকে খোয়া যাওয়া ব্যাগটি ওই যাত্রীর কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এমই