নোয়খালীর চাটখিল উপজেলা ইউপি নির্বাচনে আ’লীগের দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থীর ক্যাডাররা প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়ায় আহত হয়েছে অন্তত ৩০ জন।
মঙ্গলবার থেকে ৩ দিন ধরে সাহাপুর, রাম নারায়ণপুর, পরকোট, বদল কোর্ট, মোহাম্মমদপুর, পাঁচগাও ও নোয়াখলা ইউনিয়ন সহ ৭ ইউনিয়নে বিএনপি’র দলীয় ও জাসদ চেয়ারম্যান প্রার্থী সহ ৫ প্রার্থীরা প্রাণের ভয়ে এলাকা ছেড়ে প্রচার-প্রচারনা বন্ধ রেখে আত্মগোপনে রয়েছে। একই সময় আ’লীগের দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থীর ওই অস্ত্রধারী ক্যাডাররা তাদের প্রচারণায় বাধা, মাইক ভাংচুর, পোস্টার ও ব্যানার ছিঁড়ে এলাকায় প্রকশ্যে অস্ত্রের মহড়া চালায়।
স্থানীয়রা জানান, ৯ ইউনিয়নে ২৩ এপ্রিল নির্বাচন। মনোনয়ন পত্র যাছাই-বাছাই, প্রত্যাহার ও প্রতীক বরাদ্ধের পর থেকে ওই ৭ ইউনিয়নে আ’লীগের দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থী সহ তার অস্ত্রধারীরা বিএনপি, জাসদ ও স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থীদের প্রচারণা, মাইক ভাংচুর, পোস্টার, ব্যানার ছিঁড়ে ফেলে নির্বাচন থেকে সরে না গেলে তারা মোবাইলে প্রাণনাশের হুমকি দেয়।
এদিকে সাহাপুর, বদল কোর্ট ও পরকোট ইউনিয়নে বিএনপি ও জাসদের চেয়ারম্যান প্রার্থীরা বলেন, গত মঙ্গলবার থেকে ৩ দিন ধরে রাম নারায়নপুর ইউনিয়নের আ’লীগের দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থী শাহ আলম নির্বাচনী প্রচারণা, গণসংযোগ করতে তার ক্যাডারদেরকে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে প্রকাশ্যে এলাকায় মহড়া দেওয়া হয়।
এতে বিএনপি ও জাসদের চেয়ারম্যান প্রার্থীদের এলাকা ছেড়ে না গেলে তারা প্রাণনাশেরও হুমকি দেয়। নিরুপায় হয়ে প্রচার-প্রচারণা বন্ধ রেখে ওই ইউনিয়ন সহ ৫ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থীরা প্রাণের ভয়ে এলাকা ছেড়ে পাশের উপজেলায় আত্মগোপনে রয়েছে। আ’লীগের দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থীরা প্রকাশ্যে প্রচার করছে উপরের নির্দেশে নির্বাচনের দিন আ’লীগের দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থীর এজেন্ট ছাড়া অন্য এজেন্টদের যত কিছুর বিনিময় কেন্দ্রে ঢুকতে দেয়া হবে না।
এদিকে নোয়াখালী-১ (চাটখিল ও সোনাইমুড়ী) আসনের সাবেক এমপি, কেন্দ্রীয় বিএনপি’র যুগ্ম মহাসচিব ও সুপ্রীমকোট আইনজীবী সমিতির সেক্রেটারি ব্যারিষ্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন চাটখিল উপজেলা ওই ৭ ইউনিয়নে নির্বাচনে আ’লীগের দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে মুঠো ফোনে বলেন, পুলিশের উপস্থিতিতে বিএনপি’র দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থীদের প্রচার-প্রচরাণায় বাধা, মাইক ভাংচুর, ক্যাডারদের অস্ত্রের মহড়া, প্রার্থীদের ভয়-ভীতি নির্বাচন থেকে সরে যেতে হুমকি দেওয়া হয়।
পুলিশকে বলার পরও আ’লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী ও তার ক্যাডারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা না নেয়ায় নিরুপায় হয়ে ওই বিএনপি’র দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থীরা জীবনের নিরাপত্তা না থাকায় তারা অধিকাংশই এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে রয়েছে।
এদিকে চাটখিল থানার ওসি নাছিম উদ্দিন জানান, আইশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ, প্রার্থীদের নিরাপত্তা দিতে এলাকায় বিজিবি ও পুলিশ টহলে রয়েছে। কোন চেয়ারম্যান প্রার্থীর বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে আমাদেরকে জানালে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এমআইএস/ইআর





