বাংলাদেশের মতো সারাবিশ্বেই যথাযথ ধর্মীয় ভাব-গাম্ভীর্য আর হাসি-আনন্দে উদযাপিত হয়েছে পবিত্র ঈদুল আজহা।
সোমবার ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, মালয়েশিয়া, ইরাক, ফিলিস্তিনসহ সারাবিশ্বের মুসলিম দেশগুলোতে ঈদ উদযাপিত হচ্ছে যথাযথ ধর্মীয় নিয়মে। ভৌগলিক অবস্থানের কারণে অনেক দেশেই ঈদ উদযাপিত হয়েছে রবিবার।
এ ছাড়া অন্যান্য মুসলিম দেশগুলো ঈদ উদযাপন করছে সোমবার। এসব দেশে সকালে ঈদ জামাতে শরিক হয়েছে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষ। ধর্মীয় বিবি-নিষেধের প্রতি সম্মান জানিয়ে নারীদের জন্য ঈদের নামাজের পৃথক আয়োজন করা হয়। নামাজ শেষে একে অন্যের সঙ্গে কোলাকুলি ও সৌজন্য বিনিময় করেই সকলে ছুটেছেন মহান আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি অর্জনে পশু কোরবানি করতে।
প্রতিবেশী দেশ ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, দিল্লি, আসাম, রাজস্থান, মহারাষ্ট্র, জম্মু-কাশ্মীর, ত্রিপুরাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে মুসলিম জনগোষ্ঠী ঈদ পালন করছে মহা সমারোহে। মূলত এখানকার মুসলমানরা ছাগল ও উট কোরাবানি করেছেন ধর্মীয় রীতি মেনে। কলকাতার রেড রোডে, দিল্লির জামে মসজিদ, আগ্রার তাজমহলের সম্মুখ স্থানসহ বিভিন্ন স্থানে অনুষ্ঠিত হয়েছে বড় বড় ঈদ জামাত। যেখানে অংশ নিয়েছেন লাখো মুসল্লি। আহমেদাবাদের কুতব-ই-আলম প্রান্তরে মেয়েদের একটি বড় ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মুসলিম দেশ পাকিস্তানে ঈদুল আজহার প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে রাজধানী ইসলামাবাদের ফয়সাল মসজিদে। বিভিন্ন জাতি-গোষ্ঠীর সাম্প্রদায়িক সহিংসতার কারণে এদিন দেশটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও ঈদ জামাতের স্থানগুলোতে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে পাকিস্তান সরকার। আর সবার মতোই পাকিস্তানিরাও দেশ ও জাতি এবং সারাবিশ্বের মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেছেন ঈদ মোনাজাতে। এরপর পশু কোরবানির পাশাপাশি পারিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন ও বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করে দিন পার করেছেন পাকিস্তানিরা।
বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী দেশ শ্রীলঙ্কাতেও প্রায় ২০ লাখ মুসলমানের বসবাস। সোমবার তারা মহা সমারোহে উদযাপন করেছেন পবিত্র ঈদুল আজহা। দিনটিকে সরকারিভাবে ছুটির দিন ঘোষণা করা হয়েছে।
যুদ্ধবিধ্বস্ত ফিলিস্তিনে পবিত্র ঈদুল আজহার দিনটি পালিত হয়েছে আনন্দের আতিশায্যেই। এদিন ঈদের নামাজ আদায় ও পশু কোরবানির পাশাপাশি নানাভাবে ঈদের আনন্দ উপভোগ করার চেষ্টা করেছেন ইসরায়েলের আঘাতে ক্ষত-বিক্ষত অঞ্চলটির মানুষেরা। সেখানে শিশু-কিশোর ও নারীদের জেনিনের ওয়েস্ট ব্যাঙ্ক সিটির একটি অ্যামিউজমেন্ট পার্কের নাগরদোলায় চেপে আনন্দ করতে দেখা গেছে। এদিন ইসরায়েলের বিশেষ অনুমতিতে ৫০০ ফিলিস্তিনি জেরুজালেমের স্মৃতিবিজড়িত আল আকসা মসজিদে ঈদের নামাজ পড়ার সুযোগ পেয়েছেন। ২০০৭ সালের পর এই প্রথম এমন সুযোগ পেয়েছেন তারা।
ধর্মীয় রীতি-নিতি আর ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে আনন্দের মিলমিশে ঈদ উদযাপিত হচ্ছে পুরো বিশ্বেই। তবে এই দিনেও যুদ্ধ-বিগ্রহ আর মারণাস্ত্রের ছোঁয়া যেন থেকে গেছে যুদ্ধে ক্ষত-বিক্ষত কিছু মুসলিম এলাকায়। তাই হয়তো ঈদের দিনটিতে ইয়েমেনের শিশুদের দেখা গেছে খেলনা রাইফেল আর মেশিন গান নিয়ে মহা উৎসাহে খেলায় মেতে উঠতে।
বাংলাদেশের মতো বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও এ দিনটায় আরেকটি মিল খুঁজে পাওয়া গেছে। কোরবানির পশুর মাংসের ভাগ পাওয়ার আশায় দ্বারে দ্বারে ঘুরতে দেখা গেছে গরিব মানুষদের; যাদের জন্য ঈদ হয়তো কখনোই অতটা আনন্দের বার্তা নিয়ে আসে না।
কেএ,জেএ





