নাসিরনগরের ঘটনায় চার দফা দাবি তিন দিনের মধ্যে বাস্তবায়নের আলটিমেটাম দিয়ে দিয়ে রাজধানীর শাহবাগ মোড় থেকে অবরোধ তুলে নিয়েছে বিক্ষোভকারীরা।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরসহ দেশের বিভিন্নস্থানে হিন্দুদের বাড়িঘর ও মন্দিরে হামলা-ভাংচুরের প্রতিবাদে শুক্রবার রাজধানীর শাহবাগ মোড় প্রায় সাড়ে সাত ঘণ্টা অবরোধ করে রাখে শিক্ষার্থীরা।
একই ইস্যুতে বিভিন্ন সংগঠন জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে প্রায় সারাদিনই অবস্থান, বিক্ষোভসহ নানা কর্মসূচি পালন করেছে।
শুক্রবার সকাল ১১টায় আকস্মিক কয়েকশ' হিন্দু শিক্ষার্থী শাহবাগের ব্যস্ত এই মোড় দখলে নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। তাদের সঙ্গে অবশ্য অন্য ধর্মাবলম্বী কিছু শিক্ষার্থীকেও দেখা গেছে।
এসময় বিক্ষুব্ধরা ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর) আসনের এমপি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী ছায়েদুল হকের কুশপুত্তলিকা দাহ করে।
আন্দোলনকারীরা প্রথম দিকে মন্ত্রীর পদত্যাগ, সংখ্যালঘু-বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা, স্বাধীন সংখ্যালঘু কমিশন গঠনসহ ছয় দফা দাবি তুলে ধরে। এসব দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা শাহবাগ ছাড়বেন না বলেও ঘোষণা দেন।
তবে সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটের দিকে তিন দিনের আলটিমেটাম দিয়ে অবরোধ তুলে নেয়। পাশপাশি তাদের দাবি ছয় দফা থেকে কমিয়ে চার দফায় নামিয়ে আনা হয়।
তারা বলেন, ১৪ নভেম্বরের মধ্যে দাবি আদায় না হলে ১৫ নভেম্বর সকাল ১০টায় তারা আবার শাহবাগ মোড় অবরোধের পাশাপাশি লাগাতার অবস্থান নেবে। পাশাপাশি সারাদেশে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে।
ওই কর্মসূচীতে অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী সব ধর্ম ও মতের মানুষকে একাত্মা প্রকাশ ও অংশ নেয়ার আহ্বান জানানো হয়।
অবরোধ তুলে দেয়ার সময় দেয়া চার দফা দাবি হচ্ছে- মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী ছায়েদুল হককে মন্ত্রিসভা থেকে অপসারণ ও স্থানীয় প্রশাসনের নির্লিপ্ত কর্মকর্তাদের প্রত্যাহার, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও মন্দিরকে ক্ষতিপূরণ প্রদান ও পূর্নবাসন, এই ঘটনায় ইন্ধনদাতা ও সরসরি অংশগ্রহণকারীদের দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত এবং সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা ও স্বাধীন সংখ্যালঘু কমিশন গঠন।
এদিকে এই অবরোধের কারণে শাহবাগ থেকে বাংলামটর, শাহবাগ-মৎস্যভবন, শাহবাগ-এলিফ্যান্টরোড রাস্তা, শাহবাগ-ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাস্তা সাড়ে সাত ঘণ্টা বন্ধ ছিল। এতে ছুটির দিনেও চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয় সাধারণ মানুষকে।
শাহবাগে আন্দোলকারীদের নেতা মানিক রক্ষিত ও অপূর্ব দাস যুগান্তরকে জানান, 'জনদুর্ভোগের কথা চিন্তা করে আমরা অবরোধ তুলে নিয়েছি। তবে তিন দিনের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে আবার আন্দোলনে নামব।'
অন্যদিকে একই ইস্যুতে শুক্রবার বিভিন্ন সংগঠন জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান, বিক্ষোভসহ নানা কর্মসূচি পালন করেছে। সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত প্রায় সারা দিনই কোনো না কোনো সংগঠনের কর্মসূচি ছিল। এসব কর্মসূচির কারণে দুপুরের দিকে প্রেসক্লাবের সামনের রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়।
অবরোধে অংশ নেয়া শিক্ষার্থী অবিরত রায় বলেন, নাসিরনগরের ঘটনায় নিরীহ রসরাজকে যারা ফাঁসিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে এখনও ব্যবস্থা নেয়া হচেছ না। তিনি প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ করে বলেন, সর্ষের মধ্যে ভুত রয়েছে, তা খুজে বের করুন।
এআই





