‘দারিদ্র্যের কারণে আমার ছেলে লেখাপড়া শেখেনি। শিক্ষানবিশ চালকের লাইসেন্স নিয়ে সে গাড়ি চালাত। সে কোনো খারাপ কাজে জড়িত হয়নি, থানায় তাঁর নামে কোনো মামলা বা জিডিও নেই। আমার ২২ বছরের ছেলেকে ডাকাত বানিয়ে হত্যা করা হয়েছে।’
এ দাবি জানিয়েছেন ফরিদপুর শহরের গোয়ালচামট মোল্লাবাড়ি এলাকার বাসিন্দা সাজেদা বেগম। তাঁর ছেলে মো. সবুজ উদ্দীন ৯ মে ভোররাতে মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। ওই দিন ফরিদপুর শহরতলির বাইপাস এলাকায় সবুজের সঙ্গে আরেক তরুণ মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। পরে পুলিশ এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, দুই দল ডাকাতদের মধ্যে গোলাগুলিতে ওই দুই তরুণ নিহত হয়েছেন।
সবুজের মা সাজেদা বেগম ‘তদন্তপূর্বক বিচার চাই’ মর্মে ফরিদপুরের জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে ছেলের হত্যার বিচার চেয়ে একটি আবেদন করেছেন। আজ সোমবার এ আবেদনপত্রটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জমা দেওয়া হয়।
ওই আবেদনে সাজেদা বেগম বলেন, তাঁর ২২ বছরের ছেলেকে ডাকাত বানিয়ে হত্যা করা হয়েছে। পুলিশের এ ধরনের নাটকীয় হত্যাকাণ্ডের বিচার হবে কি? এ বিষয়ে সঠিক তদন্ত করে দোষী পুলিশ কর্মকর্তাদের উপযুক্ত বিচারের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান সাজেদা বেগম।
সবুজের বাবা আশরাফউদ্দিন জেলা জাসদের সহসভাপতি। তিনি বলেন, ‘আমার ছেলের বিরুদ্ধে থানায় কোনো মামলা নেই। সে মুরগিবাহী গাড়ি চালাত।’ তিনি বলেন, ‘৭ মে রাতে আমার ছেলের সঙ্গে শেষ কথা হয়। সবুজ মুরগির গাড়ি নিয়ে সাতক্ষীরা যাচ্ছিল। ৯ মে সকালে এলাকাবাসীর মাধ্যমে জানতে পারি আমার ছেলেকে ক্রসফায়ারে মেরে ফেলা হয়েছে।’
ছেলে হত্যার বিচার দাবি করে আশরাফউদ্দিন বলেন, ‘আমি রাষ্ট্রের কাছে বিচার চাই, সাংবাদিকদের কাছে বিচার চাই। আপনারা তদন্ত করে দেখেন, আমার ছেলে অপরাধ করলে তাকে সাজা দিন। তাকে মেরে ফেলা হবে কেন?’
এ অভিযোগের বিষয়ে ফরিদপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) বলেন, ‘ওই দুই যুবকের হত্যায় পুলিশের কোনো ভূমিকা নেই।’ তিনি দাবি করেন, দুই দল ডাকাতের বন্দুকযুদ্ধে ওই ঘটনা ঘটেছে। বন্দুকযুদ্ধের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় দুই তরুণকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানকার চিকিৎসক তাঁদের মৃত ঘোষণা করেন।
সবুজের মায়ের অভিযোগের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে এসপি বলেন, সব মা-ই তাঁর সন্তানকে নির্দোষ হিসেবে দেখেন।
৯ মে ভোরে শহরের নূরুমিয়া বাইপাস সড়কে আলালপুরের কাছে ওই দুই তরুণ নিহত হন। নিহত আরেক তরুণ হলেন ফরিদপুরের ভাঙ্গার মানিকদহ এলাকার আবদুল করিমের ছেলে পাভেল মুন্সী (২৮)।
ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) বেল্লাল হোসেন বলেন, নিহত পাভেলের নামে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় পুরোনো ও নতুন মিলিয়ে ডাকাতি বা দস্যুতার অভিযোগে সাতটি মামলা রয়েছে। তিনি বলেন, সবুজের নামে থানায় কোনো মামলা আছে বলে জানা যায়নি।
সুত্র: প্রথম আলো
এমই





