অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেছেন, আদালতে মামলা নিষ্পত্তি বা প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত ভারত থেকে নূর হোসেনকে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়।
বুধবার নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ কথা জানান।
তিনি বলেন, আমাদের দেশে আমাদের আদালত সার্বভৌম। বিদেশে তাদের আদালত সার্বভৌম। একটি দেশের আদালত তো আরেকটি দেশের আদালতকে নির্দেশ দিতে পারে না। কূটনৈতিক কৌশলের ফলে ওই দেশের সরকার তার মামলা বাতিল বা প্রত্যাহার করলে নূর হোসেনকে ফিরিয়ে আনা যেতে পারে বলে মনে করেন তিনি।
সরকারের সর্বোচ্চ এই আইন কর্মকর্তা আরও বলেন, বাংলাদেশের এই আসামিকে ফেরত দিতে ভারতের ইতিবাচক সাড়া রয়েছে বলে মনে হচ্ছে।
উল্লেখ্য, নারায়ণগঞ্জে চাঞ্চল্যকর সাত খুনের প্রধান আসামি নূর হোসেনকে ফেরত আনার আবেদন এখনো পর্যন্ত কলকতায় পৌঁছেনি। কলকাতার বারাসাত আদালত সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
এদিকে, এখনো পর্যন্ত আবেদন না পৌঁছলেও বাংলাদেশের মন্ত্রীরা বলে আসছেন নূর হোসেনকে ফেরত দিতে রাজি হয়েছে ভারত। শিগগিরই তাকে ফেরত পাওয়া যাবে। যদিও ফেরত চেয়ে আবেদন পৌঁছানোর পর তা নিয়ে আদালতে শুনানি হবে। এরপর আদালত সিদ্ধান্ত নেবে নূর হোসেনকে ফেরত পাঠানো হবে কিনা। যা সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। সে হিসেবে কত দিনে নূর হোসেনকে ফেরত পাওয়া যাবে তা এখনো নিশ্চিত নয়।
তাছাড়া আদৌ তাকে ফেরত পাওয়া যাবে কি না তাও বলার সময় আসেনি। পশ্চিমবঙ্গের বারাসাত আদালত সম্প্রতি নূর হোসেনকে ফের জেলে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে। এদিন দুই সহযোগী সুমন ও সেলিমকেসহ নূর হোসেনকে আদালতে হাজির করা হয়।
নূর হোসেন আদালতে বলেন, তিনি নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের সঙ্গে জড়িত নন। জবাবে আদালত বলেন, এটা এই মামলার বিচার্য বিষয় নয়। কিছু বলার থাকলে আইনজীবীর মাধ্যমে হলফনামায় জানাতে হবে। এসময় নূর হোসেন আদালতকে আরো বলেন, তাকে চোর কিংবা পকেটমারদের সঙ্গে যেন রাখা না হয়। জবাবে আদালত বলেন, তার জন্য আলাদা লকআপের ব্যবস্থা করা সম্ভব নয়।
এরপর চোর-পকেটমারদের সঙ্গেই নূর হোসেনকে নিয়ে যাওয়া হয় দমদম কারাগারে। এদিকে বারাসাত আদালত সূত্রে জানা গেছে, নূর হোসেনকে ফেরত চেয়ে বাংলাদেশের তরফ থেকে এখনো পর্যন্ত কোনো আবেদন সেখানে জমা পড়েনি। আবেদন জমা পড়লেও নূরের বিরুদ্ধে অনুপ্রবেশ মামলা চলবে। পাশাপাশি ফেরত চাওয়ার বিষয়টি বিবেচনাধীন করতে পারে আদালত।
তবে এ ব্যাপারে আদালতে শুনানি হবে এবং আদালতই সিদ্ধান্ত নেবে নূর হোসেনকে ফেরত পাঠানো হবে কিনা? গত ১৪ জুন অনুপ্রবেশের অভিযোগে তাকে কলকাতার উপকণ্ঠ কৈখালির একটি বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ঢাকা, ৯ জুলাই (টাইমনিউজবিডি.কম) কেএইচ // কেবি





