তোবা গ্রুপের মালিক দেলোয়ার হোসাইনের শ্রম আইন লঙ্ঘন করেছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে শ্রম আইনটি কেবল মালিকদের স্বার্থ রক্ষা, বিদেশী বায়ারদের মনোরঞ্জন বা জিএসপির সুবিধা পাওয়ার জন্য ব্যবহৃত হয়ে আসছে। শ্রমিকস্বার্থ সংশ্লিষ্ট যে ধারাগুলো আছে তার প্রয়োগ কখনও করতে দেখা যায়নি।
শ্রম আইন বাস্তবে শ্রমিকের বিপক্ষেই ব্যবহার করা হয়। তাই শ্রমিকদের জীবনে এই আইনটি মালিকপক্ষের ক্ষমতার দলিল ছাড়া আর কিছুই নয়। আমরা আইনের এই একচোখা প্রয়োগ মানি না, মানব না। আর নয়।
আজ বিকাল ৩.৩০টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে গার্মেন্টস শ্রমিক ঐক্য ফোরামের উদ্যোগে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরো বলা হয়, তুবা গ্রুপের একটি কারখানা তাজরীন ফ্যাশন্স লিমিটিডে দুই বছর আগে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১১৯জনের অধিক শ্রমিক নিহত হন। শ্রম আইনের দ্বিতীয় অধ্যায়ের ১৯ ধারা অনুযায়ী মৃত শ্রমিকরা চাকুরীর মজুরী পাবেন।
এই আইনে বলা হয়েছে, ”যদি কোন শ্রমিক কোন মালিকের অধীন অবিচ্ছিন্নভাবে অন্তত ২বছরের অধিক কাল চাকুরীরত থাকা অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন, তাহা হইলে মালিক মৃত শ্রমিকের কোন মনোনীত ব্যক্তি বা মনোনীত ব্যক্তির অবর্তমানে তাহার কোন পোষ্যকে তাহার প্রত্যেক পূর্ণ বছর বা উহার ৬ মাসের অধিক সময় চাকুরীর জন্য ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৩০ দিনের প্রদেয় হইবে।”কিন্তু তাজরীন অগ্নিকান্ডে নিহত একজন শ্রমিককেও শ্রম আইন অনুযায়ী তাদের এক টাকা পাওনা বুঝিয়ে দেয়া হয় নি।
গ্রাচ্যুইটি ইত্যাদিতো দূরের কথা, যে মাসে কারখানায় আগুন লেগেছিল সে মাসের পাওনা বেতনাটাও স্বজনদের দেয়া হয়নি। মৃত শ্রমিকের পাওনা আত্মসাতের শাস্তির বিধান শ্রম আইনে রয়েছে।
অর্থাভাবে শ্রমিকদের মজুরী দিতে না পারলেও বাড্ডার ফুজি টাওয়ারে অবৈধভাবে বন্ধ করে দেয়া কারখানা ”তুবা ফ্যাশন্স”কে কোরবাণীর ঈদের আগেই আবার চালু করেছে। যে করাখানা আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে সেটা আবার কিভাবে চালু করে? ঐ কারখানা চালু করতে দেলোয়ার মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছে।
সে সংশ্লিষ্ট বায়ারকে দেখিয়েছে হোসেন মার্কেটেই পূরোনো শ্রমিকদেরকে নিয়ে কারখানা চালু করেছে। এই মিথ্যাচারের মাধ্যমে চট্রগ্রাম বন্দর থেকে প্রায় ৩৫ কোটি টাকার কাচামাল ছাড়িয়ে এনেছে।
শ্রম আইনের যে লঙ্ঘনগুলোর কথা আমরা এখানে উল্লেখ করেছি তা বিবেচনায় নিয়ে শ্রম আইনের ১৩৬ ধারা অনুযায়ী তোবা গ্রুপের মালিক দেলোয়ারের সম্পত্তি ক্রোক করে দ্রুত আমাদের পাওনা মিটিয়ে দেয়ার জোর দাবী জানাচ্ছি।
শ্রমিকদের পক্ষ থেকে বলতে চাই কোরবানীর ঈদের আগেই সরকারের মন্ত্রী, বিজিএমইএ, মালিক পক্ষ থেকে আমাদের পাওনা পরিশোধের প্রতিশ্রতি দিয়েছিলেন। তারা বলেছিলেন শ্রমিকদের উৎসব ভাতা বিজিএমইএতে জমা আছে। কিন্তু কেউ কথা রাখেনি।
শ্রমিকরা সরকার, বিজিএমইএ, মালিক পক্ষের দ্বারে দ্বারে ঘুড়ে বকেয়া ভাতা ও শ্রম আইন অনুযায়ী তাদের পাওনা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। মালিকের আইন অমান্যের প্রতিবাদে ও নায্য পাওনা আদায়ে আমাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। আমরা পরবর্তীতে শ্রম আদালতের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ সহ আরো কঠিন কর্মসূচী হাতে নেব।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন গার্মেন্টস শ্রমিক ঐক্য ফোরামের অর্থ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম সবুজ। উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সহ সাধারণ সম্পাদক আমেনা আক্তার, কেন্দ্রীয় নেতা মমিনুর রহমান মমিন, শফিউল আলম আজাদ, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক জেবুন্নেছা জেবু প্রমুখ।
এসএইচ





