২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী শেখ হাসিনার এক জনসভায় ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা শিকার হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার বালাপাড়া ইউনিয়নের গংগাণারায়ন গ্রামের মেয়ে রেজিয়া খাতুন (৩৫)।
সেই ঘটনার দীর্ঘ ১০ বছরেও মেয়ে হত্যার বিচার না দেখে রেজিয়ার পিতা আফাজ উদ্দিন (১০০) না ফেরার দেশে চলে গেছেন। এখন রেজিয়ার হত্যার বিচার দাবি করছেন তার ছেলে নূর নবী ও হারুন।
তারা জানান, নানা অনেক আশা করেছিলেন শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতায় আসলে আমাদের মায়ের বিচার হবে। কিন্তু মায়ের বিচার না দেখে মারা গেলেন নানা। আমরা আমার মায়ের হত্যার বিচার চাই।
তারা জানান, গত ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বরে শেখ হাসিনা তাদের ৪ লাখ টাকা ও এর আগে ১ লাখ টাকা অনুদান দিয়েছিলেন।
রেজিয়ার পরিবার জানায়, রেজিয়া ঢাকার আগারগাঁও-এ ভারতীয় দূতাবাসে ছবি লাগানোর কাজ করতেন এবং হাজারীবাগ এলাকায় বসবাস করতেন। ঢাকা মহানগর হাজারীবাগ এলাকার আওয়ামী লীগের নেত্রী আয়শা মোকাররমের হাত ধরে রেজিয়া হাজারীবাগ মহিলা আওয়ামী লীগের কর্মী হয়।
দীর্ঘ একযুগেরও বেশি ঢাকায় আওয়ামী লীগের মিছিল মিটিংয়ে সক্রিয় অংশ গ্রহণ করতেন রেজিয়া। এরই সূত্র ধরে ঘটনার দিন রেজিয়াসহ আরও ২০ জন মহিলাকে সাথে নিয়ে শেখ হাসিনার জনসভায় যোগ দেন ওই মহিলা নেত্রী।
জনসভা চলা কালে হঠাৎ ভয়াবহ গ্রেনেড বিস্ফোরণে রেজিয়া খাতুনের ঘটনা স্থলে মৃত্যু হয়। ২২ আগস্ট নিহত রেজিয়ার পিতা- মাতা মেয়ের মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে ঢাকায় গিয়ে মেয়ের লাশ শনাক্ত করেন। পরে তার লাশ ঢাকা আজিমপুর কবরস্থানে দাফন করা হয়।
রেজিয়ার ছেলেদের দাবি, মেয়ে হত্যার বিচার আমার নানা দেখে যেতে পারেননি। কিন্তু আমার মায়ের হত্যার বিচার এ সরকারের আমলে দেখতে চাই।
জেডআই





