সংগঠন, অতিথি ও আয়োজকে ভিন্নতা থাকলেও রাজধানীর বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে একশ্রেণির কর্মীদের নিয়মিত দেখা যায়। টাকার বিনিময়ে যে কোনো রাজনৈতিক দল বা সংগঠনের কর্মসূচিতে অংশ নেন তারা।
রাজধানীতে অন্যান্য স্থানের তুলনায় জাতীয় প্রেসক্লাব এলাকায় সবচেয়ে বেশি রাজনৈতিক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। প্রেসক্লাবের সামনে নিয়মিতই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের আদর্শ অনুসরণকারী নাম সর্বস্ব একাধিক সংগঠনের মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
প্রেসক্লাবের অভ্যন্তরেও নিয়মিত সভা-সেমিনারের আয়োজন করতে দেখা যায় এসব সংগঠনকে। যদিও এসব সংগঠনের অস্তিত্ব বরাবরই অস্বীকার করে আসছে রাজনৈতিক দলগুলো। তবে তাদের কর্মসূচিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রভাবশালী নেতারাও অংশ নেন।
প্রেসক্লাবে নিয়মিত বিভিন্ন অনুষ্ঠানের সংবাদ সংগ্রহ করেন এমন কয়েকজন সাংবাদিক জানিয়েছেন, নাম সর্বস্ব সংগঠনগুলোর কর্মসূচিতে অর্ধেকের বেশি কর্মী আসে টাকার বিনিময়ে। এসব কর্মী সকালে আওয়ামী লীগ অনুসারী কোনো সংগঠনের মানববন্ধনে দাঁড়ালে, বিকেলে আবার একই লোক বিএনপি অনুসারী সংগঠনের মানববন্ধনে দাঁড়ায়। বিষয়টি এতটাই 'ওপেন সিক্রেট' যে, তাদের দেখলেই ভাড়াটে কর্মী বোঝা যায়।
তারা জানিয়েছেন যে, আওয়ামী লীগ ও বিএনপির অনুসারী সংগঠনগুলোর মতো চিত্র দেখা যায় অন্য কয়েকটি রাজনৈতিক দলের মূল কমিটির কর্মসূচিতে। পদধারী নেতাদের বাইরে এসব দলের কর্মসূচিতে যারা অংশ নেন, তাদের সিংহভাগই ভাড়াটে।
টাকার বিনিময়ে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া সুমন নামে এক ব্যক্তি বলেন, টাকা পাইলেই চলে, কার ব্যানারে মানববন্ধন করবো সেটা বিষয় নয়। এ বিষয়ে আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।
অনুসন্ধানে জানা যায়, মানববন্ধনে জনপ্রতি ৭০ টাকার বিনিময়ে ভাড়াটে কর্মীরা অংশ নেন। আর এসব কর্মীর জোগান দেন প্রেসক্লাব এলাকার দারোয়ান, দোকানদারসহ কয়েকজন ব্যক্তি।
প্রেসক্লাব সংলগ্ন এক দোকানদারের সঙ্গে পরিচয় গোপন করে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, যেকোনো কর্মসূচিতে কর্মী দেওয়া যাবে। সব প্রোগ্রামে কর্মী সাপ্লাই দিয়ে থাকি।
তিনি বলেন, মানববন্ধন করলে ৭০ টাকা করে জনপ্রতি দিতে হবে, এক ঘণ্টার মতো সময় তারা থাকবে। আর মানববন্ধনের পাশাপাশি ছোট মিছিল হলে ৮০ টাকা দিতে হবে। এ দোকানদার বলেন, তবে সভা-সেমিনারে একটু বেশি টাকা দিতে হবে। কারণ, তখন একটু ভালো পোশাকের কর্মী দিতে হয়।
কোথা থেকে এসব কর্মী আসে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আপনার কর্মী লাগবে, কর্মী দিব। কোথা থেকে আসবে তা বলা যাবে না। ১ ঘন্টা আগে জানাবেন, যে কোনো জায়গায় যে কোনো কর্মসূচিতে লোক চলে যাবে।
তিনি জানান, প্রেসক্লাবের দারোয়ান সুজন এ চক্রের প্রধান। কর্মসূচির জন্য বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা তার সঙ্গেই যোগাযোগ করেন। পরে প্রেসক্লাবের দারোয়ানদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সুজন এখন ঢাকার বাইরে অবস্থান করছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক দারোয়ান জানান, বিভিন্ন কর্মসূচিতে সুজন কর্মী ভাড়া দিয়ে থাকেন। পরে সুজনের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি ধরেননি।
এমএনজে





