পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন বাংলাদেশের দুজন নাগরিক। এ ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে গাড়ি চালক আর্সালান পারভেজকে (২২)।

আজ শনিবার (১৭ আগস্ট) বিকেলে তাকে গ্রেফতার করে শেক্সপিয়ার থানা পুলিশ।

নিহতদের একজন ৩৬ বছর বয়সী ঝিনাইদহের মোহাম্মদ মাইনুল আলম, আরেকজন ৩০ বছর বয়সী ফারহানা ইসলাম তানিয়া, তার বাসা ঢাকার লালমাটিয়ায়।

শেক্সপিয়ার থানা পুলিশ জানায়, শুক্রবার (১৬ আগস্ট) রাত ১টা ৫০ মিনিটে শেক্সপিয়ার সরণিতে যে গাড়িটি সজোরে ধাক্কা মারে এবং সে কারণেই মৃত্যু হয় বাংলাদেশি দুই পর্যটকের। এ ঘটনায় গাড়ির চালক শেখ আর্সালান পারভেজকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

পুলিশ জানিয়েছে, আরসালান পারভেজকে শনিবার আলিপুর আদালতে তোলা হবে। এ দিন বিচারকের কাছে আরসালানকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানানো হবে। কারণ হিসেবে ওই সূত্রটির মত, পারভেজ সেই সময় কোথা থেকে আসছিলেন, অত জোরে গাড়ি চালাচ্ছিলেন কেন, কী ভাবেই বা দুর্ঘটনা ঘটল এ সব যেমন জানার, তেমনই গাড়িচালক মদ্যপ ছিলেন কিনা সেটাও জানা প্রয়োজন।

ঘটনার এত ঘণ্টা পরে মেডিক্যাল পরীক্ষায় সেটা ধরা পড়বে না। তাই পারিপার্শ্বিক তথ্যপ্রমাণ পেতেই ধৃতকে নিজেদের হেফাজতে পেতে চাইছে পুলিশ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, আরসালান পারভেজরা দুই ভাই। দুজনেই বিদেশে পড়াশোনা করতে গিয়েছিল। ২০১৪-২০১৮ সাল পর্যন্ত পারভেজ এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজনেস ম্যানেজমেন্টের পাঠ নিয়েছেন। আখতার তাঁর সংস্থার সবচেয়ে পুরনো আউটলেট অর্থাৎ পার্ক সার্কাস মোড়ের ‘আরসালান’ এক মালিকানা তাঁকেই দিয়েছেন।

বেকবাগানের কাছে পারভেজ আখতারদের পারিবারিক বাড়ি। তবে, আরসালান পারভেজ ওই বাড়িতে থাকতেন না। সায়েন্স সিটির সামনে একটি বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্টে থাকতেন তিনি। যদিও ওই রাতে তিনি যে জাগুয়ারটি চালাচ্ছিলেন, সেটি রাখা থাকত বেকবাগানের বাড়িতে।

এদিকে কলকাতায় বাংলাদেশী নাগরিকের মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে কলকাতার বাংলাদেশ উপ-দূতাবাস এর পক্ষ থেকেও যোগাযোগ শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ তাদের সংশ্লিষ্ট স্বজনদের খোঁজ করা হচ্ছে।

এএস