প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘পরিবারের সহযোগীতায় বিরাট হৃদয়ের অধিকারী হয়ে উঠে ছিলেন বঙ্গবন্ধু। এদেশে প্রায়ই দুর্ভিক্ষ লেগে থাকতো নিজের গোলা খুলে দিয়ে ধান বিলিয়ে দিতেন তিনি।
আমার দাদা-দাদি কখনও বকাঝকা করেননি। সবসময় তার ভেতরে একটা দানশীল মোনোভাব ছিল, মানুষের প্রতি ভালোবাসা ছিল।
সেই ভালোবাসার টানেই তিনি আমাদের এই স্বাধীনতা এনে দিয়ে গেছেন। আজকে আমাদের লক্ষ্য তিনি যেভাবে দেখতে চেয়েছিলেন উন্নত সমৃদ্ধা বাংলাদেশ গড়ে তোলা। সে লক্ষ্য নিয়েই কিন্তু আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’
আজ রোববার সকালে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৯তম জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে শিশু-কিশোর সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।
বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে শিশু-কিশোরদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে যেন আজকের শিশু আগামী দিনে সুন্দর একটা ভবিষ্যৎ পায়, সুন্দর একটা জীবন পায়, সেই লক্ষ্য সামনে রেখেই কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের জীবন দেশের জন্য উৎসর্গ করেছি।’
তিনি বলেন, ১৫ই আগস্ট তাকে মেরে ফেলা হলো। আমি পরিবার হারালাম, আপনজন হারালাম কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ হারিয়েছিল তাদের স্বাধীনতার চেতনা, উন্নত জীবন পাওয়ার সম্ভাবনা।’
এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শিশু অধিকার যাতে নিশ্চিত হয়, সেজন্য ১৯৭৪ সালে জাতির পিতা বাংলাদেশে শিশু আইন প্রণয়ন করেন। এমনকি তখন জাতিসংঘও শিশু অধিকার আইন করেনি।
জাতিসংঘ এই আইন করেছিল ১৯৮৯ সালে। জাতির পিতা তা করে যান ১৯৭৪ সালে। কত দূরদর্শিতা ছিল তাঁর নেতৃত্বে!’
শিশুরাই একদিন দেশের নেতৃত্ব দেবে জানিয়ে এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে এখন থেকেই নিজেদের যোগ্য করে গড়ে তুলতে হবে। আমার জীবনটাও আমি উৎসর্গ করেছি। আমরা দুটি বোন আমাদের সবকিছু উৎসর্গ করেছি দেশের জনগণের জন্য।
দেশের মানুষ যাতে ভালো থাকে, উন্নত জীবন পায়, সেটাই আমাদের সব থেকে বড় পাওয়া। সে কারণেই আমরা দেশের জন্য কাজ করে যাচ্ছি যে, বাংলাদেশকে গড়ে তুলব যেন উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে আজকের শিশু আগামী দিনে সুন্দর একটা ভবিষ্যৎ পায়, সুন্দর একটা জীবন পায়। সেই লক্ষ্য সামনে রেখেই কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের জীবন দেশের জন্য উৎসর্গ করেছি।’
পরে সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পাশাপাশি বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের আঁকা বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ শীর্ষক চিত্র প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন প্রধানমন্ত্রী।
এএস





