কুমিল্লার মনোহরগঞ্জে শালিস না মানায় আবদুল বাতেন (৫৫) নামে এক ব্যক্তিকে প্রকাশ্যে ছুরিকাঘাত করে খুন করেছে স্থানীয় যুবলীগ নেতা সহিদুল ইসলাম (৩০)।
উপজেলার বিপুলাসার ইউনিয়নে বাকরা গ্রামে শনিবার সকালে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আবদুল বাতেন ওই গ্রামের মৃত আবদুর রহমানের ছেলে।
ঘাতক সহিদুল ইসলাম একই গ্রামের মৃত নুরু মিয়ার ছেলে ও বিপুলসার ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক।
এলাকাবাসী জানায়, বাকরা গ্রামের বাতেনের মেয়ে নার্গিসের সঙ্গে প্রতিবেশী জয়নাল আবেদীনের ছেলে স্বপনের প্রায় তিন বছর আগে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। কয়েকদিন আগে উভয় পরিবারের মধ্যে কলহ্ হলে কয়েকবার সামাজিকভাবে নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হয়।
গত শুক্রবার এ নিয়ে আবারও উভয় পরিবারের মধ্যে সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে কোনো সমাধান না হওয়ায় এ দুই পরিবারের লোকজনের মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়।
শালিস না মানায় শনিবার সকালে যুবলীগ নেতা সহিদুল নার্গিসের বাবা বাতেনকে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে ডেকে পাঠান। এসময় সেখানে আসা মাত্র মাঠের পাশে একটি দোকানের সামনে প্রকাশ্যে ধারালো ছুরি দিয়ে কুপিয়ে বাতেনের নাড়িভুড়ি বের করে ফেলেন সহিদুল। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান।
এসময় এলাকাবাসী ধাওয়া দিলে ঘাতক যুবলীগের নেতা পালিয়ে যান। এ নিয়ে এলাকায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
নিহত আবদুল বাতেনের মেয়ে নার্গিস আক্তার বলেন, 'শুক্রবার আমাদের বাড়িতে পারিবারিকভাবে সমস্যা সমাধানের জন্য শ্বশুর বাড়ির লোকজন আসে। আমার শাশুড়ি এসে আমাকে নিয়ে যাবে এমন সিদ্ধান্তও হয়েছে আমাদের পরিবারে।
'কিন্তু যুবলীগ নেতার শালিস না মানায় শনিবার সকাল ৯টায় আমার বাবাকে ডেকে নিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে। এ ব্যাপারে মামলা করা প্রস্তুতি নিচ্ছি' যোগ করেন তিনি।
খবর পেয়ে নাথেরপেটুয়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ এসআই হাসান আহমেদ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে কুমিল্লা হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছেন।
মনোহরগঞ্জ থানার ওসি শামছু জামান জানান, হত্যাকাণ্ডের খবর শুনে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। থানায় এখনো কোনো অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
টাইমনিউজ.নেট/মাহমুদ





