হজে পাঠাতে মিটিয়ে নেওয়া হয়েছে আড়াই লাখ টাকা। কিন্তু টাকা হাতে পেয়েই উল্টো সুর হজ এজেন্সিগুলোর। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত প্যাকেজ মূল্যের চেয়ে বেশি অর্থ আদায় করে হজে পাঠানো হচ্ছে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের। শুধু তাই নয়, এমনকি কোরবানির খরচটাও গুণতে হবে হজযাত্রীর নিজের পকেট থেকে।

বুধবার (২৪ আগস্ট) মধ্যরাতে রাজধানীর আশকোনায় হজ ক্যাম্পে গিয়ে বিভিন্ন এজেন্সির বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ ও প্রমাণ দুই-ই পাওয়া গেলো হজ যাত্রীদের কাছ থেকে।

প্রতারণার শিকার হজ যাত্রীরা জানান, তাদের সঙ্গে কম অর্থে মৌখিক চুক্তি করে এখন বেশি ‍অর্থ আদায় করছে হজ এজেন্সি। তারা জানান, বেসরকারি পর্যায়ে নির্ধারিত হজ প্যাকেজ মূল্য ৩ লাখ ৪ হাজার ৯০৩ টাকারও অনেক বেশি আদায় করা হচ্ছে তাদের কাছ থেকে।

তবে অতিরিক্ত অর্থ ‍আদায় করলেও সেদেশে গিয়ে কোরবানির খরচের দায়িত্ব নিচ্ছে না এজেন্সি। কোরবানির খরচও হজ যাত্রীকেই দিতে হবে।

মাগুরার স্কুল শিক্ষক (অব.) দাউদ হোসেন জানান, হলি ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস ২ লাখ ৬০ হাজার টাকা নিয়ে হজ পালনের পুরো ব্যবস্থার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তাকে। এর মধ্যে কোরবানির ব্যবস্থারও অঙ্গীকার করেছিল প্রতিষ্ঠানটি।

সে অনুযায়ী পুরো টাকা পরিশোধ করেন তিনি। কিন্তু তার কাছে আরো টাকা চাওয়া হচ্ছে। শেষ সময়ে এসে বাধ্য হয়ে হলি ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলসকে দিতে হয়েছে ৩ লাখ ১০ হাজার টাকা। আর হজে গিয়ে কোরবানি করতে হবে ‍নিজের অর্থ দিয়েই।

একই অভিযোগ করলেন মাগুরার অন্য হজ যাত্রী তিলাফ হোসেন ও আমেনা বেগম। তারা জানান, হজ করার জন্য প্রত্যেকের জন্য ২ লাখ ৬০ হাজার করে টাকা মেটানো হয়। কিন্তু শেষ সময় এজেন্সি টাকা নিয়েছে ৩ লাখ ১০ হাজার। তবে হজ থেকে ফেরত আসার পর কিছু টাকা ফেরত দেবে বলে তাদের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৫ আগস্ট) সকালে ও দুপুরে যাদের হজ ফ্লাইট নির্ধারিত রয়েছে, সেসব যাত্রীরা বুধবারই আশকোনার হজ ক্যাম্পে জড়ো হয়েছেন। লাগেজ নিয়ে ক্যাম্পে অপেক্ষা করছেন রাতে।

মাগুরার দাউদ হোসেনের ফ্লাইট সকাল পৌনে ৭টায়। সঙ্গে স্ত্রী হোরিয়া বেগম রয়েছেন। স্কুল শিক্ষক দাউদ চাকরি থেকে অবসরে আসার পর সস্ত্রীক হজব্রত পালনে যাচ্ছেন। অবসরে যাওয়ার পর যে টাকা তিনি পেয়েছেন, সেই টাকা খরচ করে হজে যাচ্ছেন তারা। কিন্তু হজ পালনে এসে এমন প্রতারণার শিকার হবেন তা ভাবতেও পারেননি।

প্রতারণার বিভিন্ন দিক তুলে ধরে তিনি বলেন, মেডিকেল ফিসহ টাকা মিটানো থাকলেও মেডিকেল ফি বাবদ ৫৬০ টাকা নিয়েছে হলি ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস। তবে ৭০ হাজার টাকা ফেরত দিতে চেয়েছে হজের পর।

পাবনার শাহজাতপুরের জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, আড়াই লাখ টাকা মিটিয়েছিলেন আল আমিন ট্রাভেলসের সঙ্গে। কিন্তু ৩ লাখ টাকা দিতে হয়েছে। তাও কোরবানির খরচ বাদে।

হজব্রত পালনে যেতে অপেক্ষমাণ প্রায় সবার অভিযোগ একই রকম। কম মূল্যের চুক্তি হলেও পরে তাদের কাছ থেকে আদায় করা হয়েছে বেশি ‍অর্থ। এদের বেশিরভাগই জানেন না বেসরকারি পর্যায়ে ৩ লাখ ৪ হাজার টাকা প্যাকেজ মূল্য নির্ধারণ করে দিয়েছে সরকার।

হজ এজেন্সিস অ্যাসোয়িশন অব বাংলাদেশ (হাব) নেতাদের এজেন্সিসহ বেশিরভাগ এজেন্সির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্যাকেজের চেয়ে কম দামে মিটিয়ে বেশি অর্থ আদায় করছে হজ যাত্রীদের কাছ থেকে।

এ বছর বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ করতে জনপ্রতি কোরবানি বাদে খরচ হবে ৩ লাখ ৪ হাজার ৯০৩ টাকা। এবার বাংলাদেশ থেকে হজব্রতে পালনের সুযোগ রয়েছে ১ লাখ ১ হাজার ৭৫৮ জনের। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ১২ সেপ্টেম্বর পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হবে।

 

এমএনজে