চট্টগ্রামের বাঁশখালীর গুনাগরি সরকারি পাহাড় যাঁরা কেটেছেন, তাঁদের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে মাটি ভরাট বিষয়ে আদালতের নির্দেশনা অনুসারে কেন পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি, তা জানাতে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসককে তলব করেছেন হাইকোর্ট। আগামী ২২ নভেম্বর আদালতে হাজির হয়ে জেলা প্রশাসক জিল্লুর রহমান চৌধুরীকে এ বিষয়ে ব্যাখা জানাতে বলা হয়েছে।

বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেন ও বিচারপতি আতাউর রহমান খানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ মঙ্গলবার এ আদেশ দেন।

বাঁশখালীতে পাহাড় কেটে ৬ মাসে ২৬ হাজার ট্রাক মাটি বিক্রি শিরোনামে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়। এটি যুক্ত করে মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ ২০১১ সালে হাইকোর্টে একটি রিট করে।

প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ওই বছরের ৪ জুলাই হাইকোর্ট রুলসহ অন্তর্বতীকালীন তিন দফা নির্দেশনা দেন। আদেশে আদালত পাহাড় যাতে কেউ না কাটে, তা তদারকি করা, যারা পাহাড় কেটেছ তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া ও যারা পাহাড় কেটেছে তাদের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে মাটি ভরাট করে পাহাড় পূর্বাবস্থায় ফেরাতে নির্দেশ দেওয়া হয়।

চলতি বছরের ৬ জুন হাইকোর্ট মাটি ভরাট বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা জানতে জেলা প্রশাসককে (ডিসি) নির্দেশ দেন। এরপর ৩০ জুলাই জেলা প্রশাসক আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। নির্দেশনা বাস্তবায়নের অগ্রগতিবিষয়ক শুনানিতে আজ আদালত জেলা প্রশাসককে আগামী ২২ নভেম্বর আদালতে হাজির হতে নির্দেশ দেন।

আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। পরে তিনি বলেন, জেলা প্রশাসক এর আগে পাহাড় যাতে না কাটে, সে বিষয়ে তদারক ও যারা পাহাড় কেটেছে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করার কথা জানিয়ে প্রতিবেদন দিয়েছেন।

সর্বশেষ ৩০ জুলাই দেওয়া প্রতিবেদনে জেলা প্রশাসক পাহাড় তদারক ও যারা পাহাড় কেটেছে, তাদের বিরুদ্ধে মামলা করাসহ নেওয়া পদক্ষেপ জানিয়েছেন। তবে যারা পাহাড় কেটেছে, তাদের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে মাটি ভরাট করে পূর্বের অবস্থায় নেওয়ার বিষয়ে কিছু বলেননি।

এ অবস্থায় আদালতের নির্দেশনা অনুসারে কেন পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি, তা জানাতে জেলা প্রশাসককে আগামী ২২ নভেম্বর আদালতে হাজির হতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এমএ