বুধবার (১৯ আগস্ট) নির্বাচন ভবনে নিজ দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের বিরতির কারণে ‘ইনস্টিটিউশনাল মেমোরি’ কিছুটা কম রয়েছে। তবে পুরো প্রক্রিয়ায় যাতে কোনো ধরনের গ্যাপ না থাকে, সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

সিইসি জানান, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মোট তিনটি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছিল। এর মধ্যে ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে দুটি এবং বিএনপির পক্ষ থেকে একটি মনোনয়নপত্র দাখিল করা হয়। যাচাই-বাছাই শেষে তিনটি মনোনয়নপত্রই বৈধ ঘোষণা করা হয়।

পরে একই প্রার্থীর একাধিক মনোনয়নপত্রের একটি প্রত্যাহার হওয়ায় বর্তমানে দুই প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। তারা হলেন—বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী ড. অলি আহমদ বীর বিক্রম।

সিইসি বলেন, সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদ সদস্যরাই ভোটার। এবার মোট ভোটার ৩৪৯ জন। ইতোমধ্যে ভোটার তালিকাও প্রকাশ করা হয়েছে।

ভোটগ্রহণ শেষে তাৎক্ষণিকভাবে ভোট গণনা করা হবে। গণনার সময় সংসদ সদস্যরা উপস্থিত থাকতে পারবেন। পরে সবার সামনে ফলাফল ঘোষণা করা হবে।

কতটি ব্যালট ছাপানো হয়েছে, কতটি ব্যবহার হয়েছে, কতটি অব্যবহৃত ও বাতিল হয়েছে এবং প্রত্যেক প্রার্থী কত ভোট পেয়েছেন—এসব তথ্যও বিস্তারিতভাবে প্রকাশ করা হবে।

কোনো সংসদ সদস্য কোন প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন, তা আলাদাভাবে প্রকাশ করা হবে না বলে জানিয়েছেন সিইসি। তবে ব্যালটের ওপর ভোটারের নাম ও প্রার্থীর নাম থাকবে বলে জানান তিনি।

রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার ও বিরোধীদলীয় নেতার ভোট দেওয়ার দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচারের সিদ্ধান্ত হয়েছে। ভোট গণনার সময়ও সরাসরি সম্প্রচার চালু থাকবে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনের জন্য নির্বাচন কমিশনের বড় ধরনের অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে না বলে জানান সিইসি। ব্যালট ছাপানো, কাগজপত্র ও স্টেশনারিসহ কিছু আনুষঙ্গিক ব্যয় হবে। সংসদ ভবনে ভোট আয়োজনের ব্যয় সংসদ সচিবালয়ের নিজস্ব ব্যবস্থাপনার অংশ হতে পারে।

আইন অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সময়সূচি ঘোষণার আগে জাতীয় সংসদের স্পিকারের সঙ্গে পরামর্শ করা বাধ্যতামূলক। সেই অনুযায়ী স্পিকারের সঙ্গে আলোচনা করেই নির্বাচনের তারিখ ও সময়সূচি ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানান সিইসি।

এস