বি-বাড়িয়ার নাসিরনগরে সংখ্যালঘুদের বাড়িঘর ও মন্দিরে হামলার ঘটনায় স্থানীয় তিন নেতাকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে আওয়ামী লীগ। তারা হলেন হরিপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ফারুক আহম্মেদ, চাপড়তলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সুরুজ আলী ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহপ্রচার সম্পাদক আবুল হাশেম।

শুক্রবার সন্ধ্যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ কথা জানান জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন সরকার।

আল মামুন সরকার বলেন, সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ঘটনায় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে তিনজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে দল থেকে তাদের স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে।

আল মামুন জানান, এ বিষয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মো. হেলাল উদ্দিনের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রতিবেদন হাতে পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ফেসবুকে ইসলাম অবমাননার অভিযোগ তুলে গত রবিবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে ১৫টি হিন্দু মন্দির ও শতাধিক ঘরবাড়িতে হামলা হয়। পাশের জেলা হবিগঞ্জের মাধবপুরেও দুটি মন্দিরে হামলা হয়। এই ঘটনার তিনদিন পর স্থানীয় সংসদ সদস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী ছায়েদুল হক এলাকায় গিয়ে বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে মালাউনরা বাড়াবাড়ি করছে।

আর সাংবাদিকরা উস্কানি দিচ্ছে।’ নাসিরনগর হামলার পর মন্ত্রীর এই ধরনের বক্তব্য আরও ক্ষুব্ধ করে তোলে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে। এর প্রতিবাদে শুক্রবার বিক্ষোভ করে বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ। বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদসহ বিভিন্ন সংগঠন এ কর্মসূচির সঙ্গে সংহতি জানায়। এছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ হয়েছে।

এমই