কথিত আছে, স্বামীর সন্তুষ্টি-অসন্তুষ্টির উপর স্ত্রীর বেহেশত-দোযখ নির্ণয় করা হবে। আর সেই স্বামীকে যদি হত্যা করা হয়। তাহলে সেই স্ত্রী কেমন স্বভাবের তা বোধগম্য নয়। তেমনি এমন একটি ঘটনা ঘটেছে ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার মোবারকগঞ্জ চিনিকল এলাকায়।

স্বামী রফি উদ্দিনকে হত্যা করে গোয়ালঘরের মেঝেতে লাশ পুঁতে রেখেছিলেন তারই পাষণ্ড স্ত্রী ফাতেমা খাতুন। ভেবেছিলেন কেউ বুঝতে পারবে না। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। পুলিশের সন্দেহ হওয়ায় ঘটনার ৩৬ দিন পর গত শনিবার রাতে ফাতেমা খাতুনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল রোববার পুলিশ গোয়ালঘরের মেঝে খুঁড়ে উদ্ধার করে রফি উদ্দিনের লাশ।

প্রতিবেশী ও পুলিশ জানায়, ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার মোবারকগঞ্জ চিনিকল এলাকার বাসিন্দা রফি উদ্দিন গত ২৫ মার্চ নিখোঁজ হন। তিনি ওই চিনিকলের গ্যারেজের শ্রমিক ছিলেন। আত্মীয়স্বজনেরা বহু খোঁজাখুঁজি করার পরও তাঁকে পাচ্ছিলেন না। এ অবস্থায় ঘটনার তিন দিন পর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে চিনিকল কর্তৃপক্ষ।

কয়েকজন প্রতিবেশী জানান, চিনিকল আবাসিক এলাকার ই-টাইপ ভবনের ২ নম্বর ফ্ল্যাটের (নিচতলা) বাসিন্দা ছিলেন রফি উদ্দিন-ফাতেমা খাতুন দম্পতি। তাঁদের তিন সন্তান। বড় মেয়ে স্বর্ণালী খাতুনের (২২) বিয়ে হয়েছে। রাশেদ আলী (২৫) ও তামিম হোসেন (১৩) নামের দুটি ছেলে আছে। শনিবার রাত ১১টায় হঠাৎ করে পুলিশ এসে পাহারা বসায় নিখোঁজ রফি উদ্দিনের গোয়ালঘরে। আর তাঁর স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়। সকালে পুলিশি পাহারায় স্ত্রী ফাতেমা খাতুন এসে দেখিয়ে দেন স্বামীকে পুঁতে রাখা স্থানটি। স্থানটিতে ইট বিছিয়ে প্লাস্টার করে দেওয়া হয়েছিল।

ফাতেমার স্বীকারোক্তির বরাত দিয়ে কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন জানান, ২৫ মার্চ ঘটনার রাতে রফি উদ্দিন বাড়িতে এসে রুটি তৈরি হয়নি দেখে উত্তেজিত হয়ে পড়েন। এ সময় তিনি রুটি তৈরির বেলুন দিয়ে স্ত্রী ফাতেমার পিঠে আঘাত করেন। তখন ফাতেমা হাতের কাছে থাকা লোহার শাবল দিয়ে স্বামীর ঘাড়ে আঘাত করলে সঙ্গে সঙ্গেই তিনি মারা যান। এ সময় তাঁর ছেলেরা কেউ বাসায় ছিল না। সেই সুযোগে ওপরের তলার আনিছ ভূঁইয়া নামের এক ব্যক্তির সহযোগিতা নিয়ে গোয়ালঘরের মধ্যে লাশটি পুঁতে ফেলেন। এরপর স্থানটি ইট-বালি নিয়ে ঢালাই করে দেন।

ওসি আনোয়ার জানান, হত্যার পর ঘটনা চাপা দিতে চেষ্টা করলেও ফাতেমা খাতুনের চলাফেরা তাঁদের সন্দেহ হয়। একপর্যায়ে তাঁরা ফাতেমার গতিবিধির ওপর নজরদারি শুরু করে। শেষে বিষয়টি মোটামুটি নিশ্চিত হয়ে শনিবার বিকেলে শ্রীপুর পুলিশের সহযোগিতায় শ্বশুরবাড়ি বারইপাড়া থেকে তাঁকে আটক করা হয়। এরপর তিনি সব ঘটনা স্বীকার করেন। আটক করা হয় তাঁর সহযোগী আনিস ভূঁইয়াকে। এই আনিস ভূঁইয়ার কাছে একটি গরু বিক্রির ৩০ হাজার টাকা পাওনা ছিল। আনিসকে ওই টাকাসহ আরও ২০ হাজার টাকা দেওয়ার কথা বলে তাঁর সহযোগিতায় স্বামীকে পুঁতে ফেলেন ফাতেমা।

প্রতিবেশী আতিয়ার রহমান জানান, পুলিশ এসে রফি উদ্দিনের গোয়ালঘর পাহারা শুরু করার পর তাঁরা জানতে পারেন এই ঘরের মধ্যে পুঁতে রাখা হয়েছে রফি উদ্দিনের লাশ।

এসএইচ