মোবাইল ফোনে ‘জীনের বাদশাহ’ পরিচয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা লুটে নেওয়ার ঘটনা প্রায়ই ঘটছে। সম্প্রতি গাইবান্ধা থেকে এমন চার ‘জীনের বাদশাহ’কে গ্রেফতার করেছে সিআইডি।

তদন্তে সংঘবদ্ধ এ চক্রটির পিছনে বড় কয়েক ব্যক্তির পৃষ্ঠপোষকতা রয়েছে বলে জানতে পেরেছে সিআইডি। রোববার সিআইডি সদর দফতরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সিআইডির উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) রওশন আরা।

তিনি বলেন, ‘গাইবান্ধায় অভিযান চালাতে গিয়ে দেখা গেছে, সেখানে এ ধরনের অনেক মানুষ জীনের বাদশা দ্বারা প্রতারিত হয়েছে। এছাড়া তদন্তে দেখা যায়, জীনের বাদশার সঙ্গে বড় বড় লোকের যোগসূত্র রয়েছে।’

এই বড় বড় লোক কারা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ডিআইজি বলেন, ‘তদন্ত চলছে। তদন্তের পর এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।’

এর আগে শনিবার গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ এলাকা থেকে প্রতারণার অভিযোগে চারজনকে গ্রেফতার করে সিআইডি। তারা হলেন- মো. আশরাফুল মন্ডল (৩৫), মো. মাফুজ (১৮), মো. আবু জাহিদ সিদ্দীকি ওরফে জাহিদ (৩৩) এবং মো. তাহাজ উদ্দিন।

সংবাদ সম্মেলনে রওশন আরা আরো বলেন, জীনের বাদশাহ পরিচয়ে আসামিরা মানুষকে নানা ধরনের ভয়ভীতি দেখাতো। স্ত্রীর পরকীয়া ও সন্তানের অমঙ্গলের মতো বিষয়ে সমাধানের পথ বলে মানুষকে আবেগপ্রবণ করতো এবং টাকা হাতিয়ে নিত।

এমনই একটি গল্প বলে যাত্রাবাড়ীর বাসিন্দা ওবায়দুর রহমান খান এবং তার স্ত্রী শিরিনা আক্তার ঝরনার কাছ থেকে ৮টি বিকাশ নম্বরের মাধ্যমে ২২ লাখ ৮১ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় এ প্রতারক চক্রটি।

ওবায়দুর রহমানের মামলার সূত্র ধরেই তদন্তে নামে সিআইডি। ‘জীনের বাদশা’র ফোন কল করা ৮টি সিমই কয়েকজন নারীর নামে বায়োমেট্রিক রেজিস্ট্রেশন করা ছিল। তবে তাদের কারো খোঁজ পাওয়া যায়নি।


এমএনজে