মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত তিতাস ঘোষকে (১১) উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিচ্ছিলেন স্বজনরা। মাদারীপুরের কাঁঠালবাড়ি ঘাটে এসে ফেরির লাইনে দাঁড়ায় অ্যাম্বুলেন্সটি। এরপরই শুরু হয় অপেক্ষা। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষায় তিতাস মারা যেতে পারে জানিয়ে ঘাট কর্তৃপক্ষের কাছে ফেরি ছাড়তে অনুরোধ জানান তার স্বজনরা। কিন্তু এতে মন গলেনি কর্মকর্তাদের।

তাদের সাফ কথা, ফেরিতে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব আবদুস সবুর মন্ডল ঢাকায় ফিরবেন বলে ফেরি কর্তৃপক্ষ ফেরি না ছেড়ে তার জন্য অপেক্ষা করে। এ সময় আহত শিক্ষার্থীর স্বজনরা শত অনুরোধ করলেও তা কানে নেননি ফেরি কর্তৃপক্ষ। যুগ্ম সচিব যাবেন ফেরিটিতে, তিনি না আসা পর্যন্ত কোনো মতে এটি ছাড়া যাবে না বলে জানিয়ে দেন।

এতে তিন ঘণ্টা অপেক্ষার পর সচিব আসার পর ছাড়া হয় ফেরি। ততক্ষণে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মৃত্যু হয়েছে তিতাসের।

তিতাস নড়াইল কালিয়া পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র।

অথচ বিআইডব্লিউটির নির্দেশনা রয়েছে অ্যাম্বুলেন্সের অগ্রাধিকারভিত্তিতে ফেরি পারাপার করতে হবে।

দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হওয়ায় তিতাসকে প্রথমে খুলনার একটি প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য বৃহস্পতিবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হচ্ছিল।

অ্যাম্বুলেন্সে চিকিৎসা সেবা দেয়ার জন্য সঙ্গে নেয়া হয় চিকিৎসকসহ জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জাম। আইসিইউ সংযুক্ত অ্যাম্বুলেন্সটি ৫০ হাজার টাকা দিয়ে ভাড়া নেয়া হয়।

কিন্তু ঘাট কর্তৃপক্ষের খামখেয়ালিতে সেই অ্যাম্বুলেন্সেই প্রাণ দিতে হল তিতাসকে।

ওই ভিআইপি কর্মকর্তার গাড়ি পারাপারের খবর দিয়ে ছিলেন মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক ওয়াহিদুল ইসলাম।

এ ব্যাপারে তিনি জানান, আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ফোন করে ঘাটের ব্যপারে আমাকে জানান। আমি ওই সময়ে ঘাটের আইনশৃঙ্খলার বিষয়ে মিটিংয়ে ছিলাম। সেখানে ঘাটের দায়িত্বরত কর্মকর্তাও ছিলেন। আমি তাকে বলেছি যুগ্ম সচিব ফেরিতে যাবেন।

তিনি বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ আমাকে জানালে আমার দায়িত্ব বিষয়টি ঘাট কর্তৃপক্ষকে পৌঁছে দেয়া। তাদের জানানো ছাড়া এখানে আর কিছু নেই। তবে ফেরিতে অ্যাম্বলেন্স না তুলে সচিবের জন্য অপেক্ষা করার বিষয়টি আমাকে জানানো হয়নি।

ওয়াহিদুল ইসলাম বলেন, সচিবের জন্য ফেরি অপেক্ষা করার বিষয়টি সম্পূর্ণ ঘাট কর্তৃপক্ষের বিষয়। আমি অ্যাম্বুলেন্স বসিয়ে রেখে সচিবকে নিতে হবে; এমন কোনো কথা বলিনি।

নিহত তিতাসের স্বজনদের অভিযোগ ওই সময় ঘাটে উপস্থিত লোকজনের অনুরোধেও কাঁঠালবাড়ি ঘাট কর্তৃপক্ষের টনক নড়েনি।

সাহায্য চান ঘাটে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের, এমনকি প্রতিকার মেলেনি জরুরি নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করেও।

স্বজনরা আরও জানান, তিতাস মারা যাওয়ার পর আর ঢাকার দিকে না গিয়ে শিমুলিয়া ঘাট থেকেই ফিরে আসি আমরা।

এসএম