কালবৈশাখী নয়। একখানি মেঘ ভেসে এলো আকাশে। গুচ্ছ গুচ্ছ মেঘ মুখ ভার করে আকাশে তর্জন-গর্জন করে চলেছে। অবশেষে মেঘ না চাইতেই দু’এক ফোটা বৃষ্টি। বৈশাখী উৎসবে এ বৃষ্টি হৃদয়ে অনুরণন তোলে।

গ্রীষ্মের তীব্র খরতাপে জ্বলে যাওয়া সকালে ময়মনসিংহে মঙ্গল শোভাযাত্রায় অংশ নিয়ে ঐতিহ্যের আগুনে পুড়েছিল মানুষজন। প্রতিটি পথে, মেলায়, অনুষ্ঠানে ছিল হাজার হাজার মানুষের প্রাণচাঞ্চল্য। এ যেন উৎসব মুখরতার বিহ্বলতা।

পহেলা বৈশাখের প্রথম সকালেই বৃহস্পতিবার (১৪ এপ্রিল) ছিল ভ্যাপসা গরম। কিন্তু শেষ বিকেলে রোদ্রের প্রখরতা হঠাৎ কমে যায়। মেঘ ভেসে আসে বৈশাখের প্রথম বিকেলে। দু’এক ফোটা বৃষ্টিও এখানে সেখানে বিপ্তি ইতস্তত।

উৎসবের আনন্দে মেতে উঠা মানুষ হয়ে উঠে সচকিত। সবাই ধরে নিলেন ভারী বৃষ্টি হতে যাচ্ছে, এমনকি ঝড়। কিন্তু তা হয়নি। ফোটা ফোটা বৃষ্টির পর আবার হেসে উঠে সূর্যমামা।

 বিগত বছরের জীর্ণ মালিন্যকে পেছনে ফেলে নতুন বছরকে বরণ করে নেয়ার দিনে তবুও মেঘের গর্জন বর্ষবরণ উৎসবে জনারণ্য থেকে মানুষকে ঘরমুখী করে দেয়। এ যেন বিকেল ৫ টায় ঘরে ফেরা সরকারি তাগিদের স্বপে প্রকৃতির সাড়া।

নববর্ষ উদযাপনে সকাল থেকেই উৎসবে মাতোয়ারা হয়ে উঠে ময়মনসিংহ। সবার প্রাণে বেজে উঠে বিদ্রোহী কবির সেই দৃপ্ত আকাঙ্খাও : ‘তোরা সব জয়ধ্বনি কর/তোরা সব জয়ধ্বনি কর/ঐ নূতনের কেতন ওড়ে কালবোশেখির ঝড় ... তোরা সব জয়ধ্বনি কর।’

নগরীর জয়নুল উদ্যান পার্কে বিকেল সাড়ে ৫ টা নাগাদও জনারণ্য। এখানে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঘুরতে এসেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী মাহাবুবুর রহমান মনির। দু’একফোটা বৃষ্টি তার কাছে চরম উপভোগ্য জানিয়ে বলেন, বিকেল হতেই আকাশ মেঘ করে আসে। এতে গরমের দাপট কমে যায়। এখনো আনন্দ-উল্লাস করছেন সবাই।

এসটি