কলেজছাত্রী সোহাগী জাহান তনু যে হত্যার শিকার, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। লাশের অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে, তাঁকে হত্যার আগে ধর্ষণ করা হয়েছে।

গতকাল বুধবার তনুর লাশ তোলার পর কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. শাহ আবিদ হোসেন এ কথা বলেছেন।
এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য এবং পারিপার্শ্বিক আলামত থেকে পুলিশ সুপার এ ধারণা করছেন বলে জানিয়েছেন।

এ জন্য দ্বিতীয় দফা ময়নাতদন্তে এ-সংক্রান্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রতিবেদন চেয়েছেন তিনি। প্রতিবেদন পাওয়ার পর সব বিষয় স্পষ্ট হবে।

পুলিশ সুপার আরও বলেন, এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে তিনি মনে করছেন, তনুকে অন্য কোথাও হত্যা করে ঝোপের মধ্যে ফেলা হয়েছে।

ঘটনাস্থলে যে আলামত রাখা হয়েছে, তা সাজানো মনে হয়েছে। একই কথা তিনি বিবিসিকেও বলেছেন।

তনুর লাশ তোলার পর এ কাজে যুক্ত একাধিক ব্যক্তি ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে ঘটনাস্থলে কথা বলে জানা গেছে, তাঁর মাথার পেছনে জখমের দাগ আছে। নাক থেঁতলানো। কানের নিচে আঁচড়ের দাগ ও চুল কাটা।
তবে তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, প্রথম দফা সুরতহাল প্রতিবেদন ও ময়নাতদন্তে তনুর মৃত্যুর কারণ স্পষ্ট হয়নি।

ওই দুই প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, তনুর মৃতদেহে কোনো আঘাতের চিহ্ন ছিল না, কেবল নাক দিয়ে রক্ত বের হয় এবং কানের নিচে আঁচড়ের দাগ ছিল। চুল কাটা ছিল।

তনুর বাবা ইয়ার হোসেন বলেছেন, তিনি প্রথম যখন তনুকে উদ্ধার করেন, তখন তাঁর মাথার পেছনে ও নাকে জখম দেখেছেন। এ ছাড়া তনুর জামার দুই বাহুর নিচের দিকে ছেঁড়া ছিল।

তনুকে প্রথম দফা কবর দেওয়ার আগে যাঁরা শেষ গোসল দিয়েছেন, এমন একজনও তনুর মাথার পেছনে ও নাকে জখম এবং কানের নিচের আঁচড় ও চুল এলোমেলোভাবে কাটা দেখেছেন।

প্রথম দফা সুরতহাল প্রতিবেদন করেছিলেন কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম।


সূত্র: বিবিসি বাংলা


এসএম