সিলেটের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ পথ হচ্ছে সিলেট-কোম্পানীগঞ্জ-ভোলাগঞ্জ সড়ক। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে জনগুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটি মরণফাঁদে পরিণত হয়ে আছে।

২০১৪ সালে পরিদর্শনে এসে তৎকালীন যোগাযোগমন্ত্রী (বর্তমানে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী) ওবায়দুল কাদের সড়কটিকে ‘ক্যান্সার আক্রান্ত’ বলে মন্তব্য করেছিলেন। ৩৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এ সড়কটিকে এখন ‘সড়ক’ বলে চেনার উপায় নেই। পুরো সড়কের স্থানে স্থানে পুকুরের মতো গর্ত, খানাখন্দ আর ডোবার মতো সৃষ্টি হয়েছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ বাধ্য হয়ে এ সড়ক দিয়ে যাতায়াত করছেন।

সম্প্রতি সিলেট-ভোলাগঞ্জ-কোম্পানীগঞ্জ সড়ক সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, পুরো সড়কটিই বিপজ্জনক সব গর্ত আর খানাখন্দে ভরা। দীর্ঘ এ সড়কটির বর্ণী, দয়ারবাজার, ধোপাগুল, ছালিয়া, সালুটিকর, পিয়াইনগুল এলাকার অবস্থা রীতিমতো ভয়াবহ। এসব এলাকায় সড়কের পিচ অনেক আগেই ওঠে গিয়ে সেখানে বিশাল বিশাল গর্ত তৈরি হয়েছে। দেখে মনে হবে, সড়ক নয়, এ যেন পুকুর!

জাতীয় অর্থনীতিতে ভোলাগঞ্জের অবদান গুরুত্বপূর্ণ। ভোলাগঞ্জের পাথর দেশের সর্বত্র নির্মাণকাজে ব্যবহৃত হয়। এজন্য সিলেট-কোম্পানীগঞ্জ-ভোলাগঞ্জ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন শত শত ট্রাক চলাচল করে। ভোলাগঞ্জ থেকে সরকার প্রতি মাসে কোটি কোটি টাকা রাজস্ব আয় করে থাকে। কিন্তু সিলেট-ভোলাগঞ্জ সড়কটি বছরের পর বছর ধরে চরম বেহালে পড়ে থাকলেও সংশ্লিষ্টদের কোনো মাথাব্যথা নেই।

সড়কটি সংস্কার দাবিতে ওই এলাকার মানুষ অনেকবারই ধর্মঘট, অবরোধ, মানববন্ধন, সড়কে ধানের চারা রোপণসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছেন, করছেন। কিন্তু কোনো কিছুতেই যেন কিছু হচ্ছে না। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি বিভিন্ন পরিবহন ও ব্যবসায়ী সংগঠনও লাগাতার আন্দোলন কর্মসূচি চালিয়ে আসছে। কিন্তু তবু এ সড়কের সংস্কার কাজ শুরু হচ্ছে না।

তাই বাধ্য হয়ে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী, পরিবহন সংগঠন ও ব্যবসায়ী সংগঠন আগামীকাল বুধবার থেকে সিলেট-কোম্পানীগঞ্জ-ভোলাগঞ্জ সড়কে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন।

ধোপাগুল পাথর ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. নুরুল আমিন বলেন, বার বার আশ্বাস দিয়েও সড়কটি সংস্কার করা হয়নি। আমরা অসহায় হয়ে পড়েছি। বাধ্য হয়ে আন্দোলনে নামতে হচ্ছে।

সালুটিকর পাথর ব্যবসা মালিক সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. ইকলাল আহমদ বলেন, মানুষ এই নরক যন্ত্রণা থেকে মুক্তি চায়। মানুষের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেছে।

এ ব্যাপারে কথা বলতে সড়ক ও জনপথ বিভাগ, সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী শেখ মনিরুল ইসলামকে ফোন দেওয়া হলে তিনি রিসিভ করেননি।

এম আর