দেশের উত্তর ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জঙ্গি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে দীর্ঘসময় কাটিয়ে গুলশান হামলার আগে ঢাকা আসেন মারজান। ঢাকা এসে মিরপুরের একটি বাসায় ওঠেন। গুলশান হামলার মাস্টারমাইন্ড ও জেএমবি’র অপারেশন কমান্ডার মারজান বর্তমানে গোয়েন্দা নজরদারিতে রয়েছেন।

দ্রুত সময়ের মধ্যেই তাকে গ্রেফতার করা হবে বলে জানিয়েছেন তদন্তসংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা কর্মকর্তারা।

গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, গুলশান হামলার ১০ থেকে ১৫ দিন আগে ঢাকায় আসেন তিনি। ঢাকা আসার আগে গাইবান্ধার গোবিন্ধগঞ্জ জঙ্গি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও ঝিনাইদহের কালিগঞ্জের আস্তানায় ছিলেন দীর্ঘদিন।

সূত্র জানায়, দেশের উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের জঙ্গি আস্তানাগুলোতে নতুন জঙ্গিদের মোটিভেশন ও প্রশিক্ষণ দিতেন মারজান।

কারিগরি বিভিন্ন বিষয়ে পারদর্শী মারজান সম্পর্কে গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, গোবিন্দগঞ্জ ও কালীগঞ্জ জঙ্গি আস্তানায় প্রশিক্ষিত জঙ্গিরাই গুলশান ও শোলাকিয়া হামলায় অংশ নেন। দু’টি আস্তানাসহ উত্তরবঙ্গে দীর্ঘদিন কাটিয়ে গুলশান হামলার আগে ঢাকায় আসেন মারজান।

গুলশান ও শোলাকিয়ার হামলা বাইরে থেকে সমন্বয় করেন তিনি। গুলশান হামলার আগে ও পরে মারজানকে ঢাকায় দেখা গেছে বলে জানিয়েছেন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা।
এর আগে, শুক্রবার (১২ আগস্ট) বিকেলে গুলশান হামলার আরেক মাস্টারমাইন্ড মারজানের তথ্য চেয়ে ছবি প্রকাশ করে পুলিশ।

তদন্তসংশ্লিষ্ট কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানান, আমরা মারজান সম্পর্কে তথ্য পেয়েছি। দ্রুত তাকে গ্রেফতার করা যাবে।
মারজান গ্রেফতার হলে সাম্প্রতিক সময়ের আলোচিত জঙ্গি হামলা, টার্গেট কিলিংয়ের ঘটনার জট খুলবে বলেও আশা করেন ওই কর্মকর্তা।

মারজান বিষয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার ও কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম বলেন, মারজানারে বিষয়ে তথ্য পাওয়ার জন্য তার ছবি প্রকাশ করা হয়েছে। বাংলাদেশের নাগরিক এবং উচ্চশিক্ষিত। তিনি জেএমবি’র অন্য সদস্যদের কাউন্সিলিংও করাতেন।

এমএনজে