যশোর শহরতলির কিসমত নওয়াপাড়ায় ভয়াবহ আগুনে পুড়ে অন্তত দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছে অন্তত ৪ জন।
সোমবার রাত সাড়ে আটটার দিকে একটি ডেন্টিং কারখানায় কাজ করার সময় বৈদ্যুতিক ট্রান্সমিটার বার্স্ট হয়ে আগুনের সূত্রপাত হয়।
ভয়াবহ আগুনের খবর পেয়ে আশপাশের হাজার হাজার লোক ঘটনাস্থলে হাজির হয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, যশোর-ঢাকা মহাসড়কের রজনীগন্ধা ফিলিং স্টেশনের পাশেই জনৈক সুমনের একটি গ্যারেজ আছে। সেখানে আজ রাতে শ্রমিকরা গাড়ি ডেন্টিংয়ের কাজ করছিলেন। এ সময় পাশের বৈদ্যুতিক ট্রান্সমিটার বার্স্ট হয়ে কেবলে আগুন ধরে যায়। ক্রমে তা ছড়িয়ে পড়তে থাকে।আগুনে গ্যারেজে পার্ক করে রাখা একটি কাভার্ডভ্যান এবং কয়েকটি ট্রাক পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
এদিকে,আগুনের খবর পেয়ে একের পর এক ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ঘটনাস্থলে যেতে থাকে। যশোর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সবকটি ইউনিট চেষ্টার পর ব্যর্থ হলে বাঘারপাড়া এবং মণিরামপুর ফায়ারসার্ভিস স্টেশনের আরো ইউনিট ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছিল।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, ফায়ার সার্ভিসের আটটি ইউনিট কাজ করে আগুন প্রায় নিয়ন্ত্রণে এনে ফেলেছেন। রাত সাড়ে দশটা পর্যন্ত সেখানে অল্প আগুন দেখা যাচ্ছিল। আগুনে পুড়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া এলাকায় দুটি লাশ দেখতে পায় প্রত্যক্ষদর্শীরা।মানুষের দেহ দুটি পুড়ে কয়লা হয়ে গেছে। তাদের পরিচয় শনাক্ত করার মতো কোনো পরিস্থিতি এখনো হয়নি।
ঘটনাস্থলে থাকা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাইমুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, আগুনে পুড়ে অন্তত দুইজনের মৃত্যু হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিস যশোর স্টেশনের সহকারী পরিচালক পরিমলচন্দ্র কুণ্ডুও এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ঘটনাস্থল থেকে দুইজন আহতকে উদ্ধার করে জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয়দের ধারণা, পুড়ে যাওয়া গাড়িগুলোর কোনোটিতে কেমিক্যাল বা অন্য কোনো দাহ্য পদার্থ ছিল। এর ফলেই আগুন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। দাউ দাউ করে আগুন জ্বলার সময় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।
আগুন দ্রুত বিস্তৃত হওয়ায় আশপাশের বাড়িঘরে থাকা মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। শিশু-নারীরা আহাজারি করতে থাকেন। হাজার হাজার মানুষ জড়ো হন ঘটনাস্থলে। দীর্ঘ ৪/৫ ঘণ্টা চেষ্টার পর রাত ১ টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। ঘটনাস্থলে ভষ্মিভুত একটি কাভার্ড ভ্যান এবং ৬টি ট্রাক পড়ে রয়েছে।
তারেক/জারিফ





