সম্প্রতি কুড়িগ্রামের সাংবাদিককে মধ্যরাতে ডিসি অফিসের দুই-তিনজন ম্যাজিস্ট্রেট বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে উলঙ্গ করে দুই চোখ বেঁধে নির্যাতন করেন। এরপর ক্ষমতার অপব্যবহার করে ভ্রাম্যমাণ আদালতে কারাদণ্ড দেন। প্রশাসনের এমন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সারা দেশে সমালোচনার ঝড় ওঠে।

এর রেশ কাটতে না কাটতেই মাস্ক না পরায় তিন প্রবীণ ব্যক্তিকে রাজপথে কান ধরান যশোরের মনিরামপুরের সহকারী কমিশনার (ভূমি)। এভাবে একের পর এক বেআইনি কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছেন মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তারা। এতে তীব্র সমালোচনার মুখে বিব্রত জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

এ ব্যাপারে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেন, সরকারি চাকুরেদের জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করতে হবে। জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) মাধ্যমে তাদের সেই নির্দেশনা দেয়া হয়েছে, এর ব্যত্যয় হলে ক্যারিয়ার শেষ হয়ে যেতে পারে। কেউ যেন দায়িত্বে অবহেলা এবং শৃঙ্খলা ভঙ্গ না করেন। এতে ব্যাড ইমেজ তৈরি হচ্ছে, আমরা এর দায়ভার নেব না। বাহাদুরি দেখানোর জন্য কোনো কাজ করলে, শৃঙ্খলাবিধি ভঙ্গ করলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তিনজন সিনিয়র সিটিজেনকে কান ধরিয়ে মনিরামপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাইয়েমা হাসান ভুল করেছেন বলে মত দেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, মনিরামপুর উপজেলার ইউএনও ওই বয়স্ক তিনজনের কাছে গিয়ে ক্ষমা চেয়েছেন। তাদের হাতে খাদ্যসামগ্রী এবং হ্যান্ড স্যানিটাইজার তুলে দিয়েছেন।

জনপ্রশাসন সচিব শেখ ইউসুফ হারুন বলেন, যে তিনজন সিনিয়র সিটিজেন সাথে খারাপ আচরণ করা হয়েছে, যা ঘটেছে তাতে তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা হিসেবে তার পক্ষে আমাদের সরি বলা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। তাদের আচরণের জন্য আমাদের বিব্রত হতে হয়। এই ঘটনায় আমরা অত্যন্ত ব্যথিত হয়েছি।

খুলনা বিভাগীয় কমিশনার ড. মু: আনোয়ার হোসেন হাওলাদার বলেন, ওই কর্মকর্তাকে মনিরামপুর থেকে প্রত্যাহার করে বিভাগীয় কমিশনার অফিসে সংযুক্ত করেছি। তার অপরাধের মাত্রা বিবেচনা করে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এমবি