যশোরে হোসেন আলী তরফদার (৫৫) নামে এক আনসার সদস্যকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।
শনিবার সকাল ১০টার দিকে যশোর সদর উপজেলার হাশিমপুর বাজারে একটি চায়ের দোকানের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ বলছে, পূর্বশত্রুতার জের ধরে এই হত্যার ঘটনা ঘটতে পারে।
নিহত আনসার সদস্য হোসেন আলী তরফদার (৫২) যশোর সদর উপজেলার হাশিমপুর তরফদারপাড়া এলাকার আরশাদ আলী তরফদারের ছেলে।
স্থানীয়রা জানায়, হোসেন আলী তরফদার চায়ের দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে কারও সঙ্গে কথা বলছিলেন। এসময় কয়েকজন তাকে গুলি করে পালিয়ে যায়। এ সময় গুলি তার মাথায়, আরেকটি তার বুকের বামপাশে বিদ্ধ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান।
খবর পেয়ে যশোরের পুলিশ সুপার মঈনুল হকের নেতৃত্বে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছান।
নিহতের বোন শরীফা বেগম ও মেয়ে জুলি জানান, আনসার বাহিনীর সদস্য হোসেন আলী তরফদার ঢাকার মীরপুরে কর্মরত ছিলেন। তিনদিন আগে ছুটিতে তিনি বাড়ি এসেছেন। আজ সকালে যশোর সদরের ভেকুটিয়া এলাকায় এক আত্মীয়ের বাড়িতে যাওয়ার উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হন। এরপর তারা শুনতে পান হাশিমপুর বাজারে তিনি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
স্থানীয়রা জানায়, হোসেন আলী তরফদার একসময় নিষিদ্ধ ঘোষিত চরমপন্থী দলের সদস্য ছিলেন। ১৯৯৯ সালে সরকারের সাধারণ ক্ষমার আওতায় অস্ত্র জমা দিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসেন। এরপর সরকার তাকে আনসার বাহিনীতে চাকরি দেয়।
স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বর আলীম হোসেন বনি জানিয়েছেন, অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা তাকে গুলি করে হত্যা করেছে; এমন খবর পেয়ে তিনি বাজারে ছুটে আসেন। বাজারে গোলাগুলির সঙ্গে সঙ্গেই দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়।
যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মনিরুজ্জামান জানান, অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা হোসেন আলীকে গুলি করে হত্যা করেছে। ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি আনসার সদস্য বলে শুনেছেন। হত্যাকাণ্ডের কারণ এবং কারা জড়িত তা উদঘাটনে তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করা হচ্ছে। পুলিশ জড়িতদের চিহ্নিত করে আটকের জন্য অভিযান শুরু করেছে।
যশোরের পুলিশ সুপার মঈনুল হক খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আনসার বাহিনীর সদস্য হোসেন আলী তরফদারের খুনিরা বাজারের আশেপাশেই ছিল। তিনি আসার পর গুলি করে তারা পালিয়ে গেছে।
তিনি আরও বলেন,‘পূর্ব শত্রুতার কারণে তিনি খুন হয়ে থাকতে পারেন। তবে, হত্যকাণ্ডের সঙ্গে যেই জড়িত থাক না কেন পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনবে।
এমএম





