গেছেবারের আগের বার মধুমতি নদীতি ভিটেমাটি সব হারায়ে ছ্যায়াল মায়েরে নিয়ে এই এহেনে আইসে বাড়ি বানাইয়ে কোনো রহমের ছিলাম। কালকের আগের দিন আমার সেই বাড়িডাও নদীতি নিয়ে গেছে। এহন আমার আর কিছু নাই। এই নিয়ে ৪ বার আমার বাড়ি মধুমতি নিয়ে গেল। আগুনে পুড়ে গিলি তো ছাই থায়ে, নদীতি নিলি কিছু থায়েনারে বাবা।

এভাবেই সাংবাদিকদের কাছে মধুমতি নদী ভাঙনের কথা বলছিলেন, লোহাগড়া উপজেলার ইতনা ইউনিয়নের উত্তর লংকারচর গ্রামের সেলিম সরদার।

সরেজমিন দেখা গেছে, নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার মধুমতি নদীর ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। গত এক মাসে লোহাগড়া উপজেলার ইতনা ইউনিয়নের উত্তর লংকারচর গ্রামের ইয়ার আলী মীর, শামসু মোল্যা, কানছে মোল্যা, খলিল খালাসী, নজরুল খালাসী, লিয়াকত মোল্যা, আকবর আলী মীর, কুদ্দুস ও মোকতার আলীর ঘর-বাড়িসহ নদী পার্শ্ববর্তী আহম্মদ শেখ, উসমান কাজী, সেলিম সরদার, সত্তার মোল্যা, কোমেলা, খোকা মোল্যাসহ অন্তত ৫০ জনের বসতবাড়ি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

ঘরবাড়ি, ফসলি জমি হারিয়ে তারা এখন রাস্তার পাশে, আত্মীয় বাড়িতে, গাছ তলায় আশ্রয় নিয়েছে। এছাড়াও এখন ওই গ্রামের আরিফ খা, হালিম খা, কওছার মোল্যা, আদিল উদ্দিন পোদ্দার, ইব্রাহিমসহ অন্তত শতাধিক দরিদ্র মানুষের ঘরবাড়ি ভাঙনের মুখে রয়েছে।

ভাঙন এলাকার কৃষক আকিদুল বলেন, গত এক মাসে নদীর অব্যাহত ভাঙনে ৫০টি বাড়ি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে এবং শতাধিক বাড়ি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। ভাঙন রোধে এখনও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। ফলে চরম আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছে নদী তীরবর্তী হাজার হাজার মানুষ।

ভাঙনে ভিটামাটি হারানো কুদ্দুস ও মুক্তার আলী জানান, জয়বাংলা খেয়াঘাট জামে মসজিদটির অর্ধেক নদী গর্ভে চলে গেছে। জয়বাংলা খেয়াঘাট সংলগ্ন এলাকায় ভাঙনের তীব্রতা বেশি।

ইতনা ইউপি চেয়ারম্যান শেখ সিহানুক রহমান জানান, ভাঙনের কথা স্থানীয় এমপি, উপজেলা চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ পানি উন্নয়ণ বোর্ড (পাউবো) কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। আক্ষেপের সঙ্গে তিনি আরও বলেন, গরীব মানুষের শেষ সম্বল জমি, ঘরবাড়ি নদীতে চলে গেছে অথচ তাদের দেওয়া হয় মাত্র ১০ কেজি চাউল। কারে, কি বলবো ?

নড়াইল পানি উন্নোয়ন বোর্ডের উপ সহকারী প্রকৌশলী, অমৃত কুমার দাস বাংলানিউজকে জানান, পর্যাপ্ত বরাদ্দ না পাওয়ায় ভাঙন কবলিত এলাকায় ভাঙন প্রতিরোধে সঠিক পদক্ষেপ নেওয়া যাচ্ছেনা।

জেলা প্রশাসক আ. গফ্ফার খান বলেন, নড়াইলে নদী ভাঙনের প্রকটতা খুবই কম, কিছু কিছু এলাকায় নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে, সেসব এলাকায় জেলা প্রশাসনের ত্রাণ তহবিল থেকে সহযোগিতা করা হয়েছে। আর যারা নদী ভাঙনের শিকার হয়ে ভুমিহীন হয়ে গেছে তাদের জন্য গুচ্ছগ্রাম করে পূনর্বাসন করার চেষ্টা অব্যাহত আছে। এলাকায় সরকারী খাস জমি থাকলে নদী ভাঙন কবলিত মানুষের মাঝে বরাদ্দ দেয়া হবে।

ঢাকা, ২৫ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, জেআই