ফুরফুরে মেজাজে রেলমন্ত্রী মো. মুজিবুল হক। গায়ে নতুন স্যুট। পোশাকের সঙ্গে মানানসই টাই। বৌভাত অনুষ্ঠানে অন্য দশজন বর যে পোশাকে থাকেন সে পোশাকেই সরকারের এ ৬৯ বছর বয়সী মন্ত্রী।

মন্ত্রীর বৌভাত উপলক্ষে জাতীয় সংসদের এলডি হল সেজেছে বর্ণিল সাজে। শুক্রবার সন্ধ্যার পরই এলডি হলে শুরু হয় মন্ত্রী মো. মুজিবুল হকের বৌভাত অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানস্থলে আলাদা স্টেজে বসেছেন কনে হনুফা আক্তার।

মহাজোট সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, রাজনৈতিক নেতাকর্মী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তি, সাংবাদিকসহ সমাজের বিভিন্ন পেশার লোকজন আমন্ত্রিত অতিথি হয়ে এসেছেন। আগত অতিথিদের খোশগল্পে বৌভাত অনুষ্ঠান উৎসবে রূপ নিয়েছে।

৬৯ বছর বয়সে এসে রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক শুরু করেছেন জীবনের নতুন অধ্যায়। বিয়ে করেছেন কিছুদিন আগে। আর এখন চলছে বৌভাত। পাঁচশ খাসি আর পাঁচ হাজার মুরগি দিয়ে চলছে অতিথি আপ্যায়ন।

বৌভাতের এই প্রস্তুতি শুরু হয় ৩ নভেম্বর থেকেই। ওই দিন থেকে ৪০ জন লোক এখানে রাত-দিন ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন বৌভাত অনুষ্ঠানের কাজে। অর্থাৎ মোট ১১ দিন লেগেছে শুধু অতিথি আপ্যায়নের ডেকোরেশনেই।

 মন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তারা জানান, বৌভাতে ছয় হাজার আমন্ত্রণপত্র পাঠানো হয়। এখন আমন্ত্রিত অতিথিদের আপ্যায়ন চলছে। অনুষ্ঠানে ভিআইপিদের জন্য এলডি হলের ভেতরে রাখা হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। থাকছে তিন হাজার আটশ লোকের একসঙ্গে বসে খাওয়ার সুযোগ।বৌভাতের মেনুতে রয়েছে বিশেষ খাবারের মধ্যে রয়েছে খাসির বিরিয়ানি, মুরগির রেজালা, বোরহানী ও জর্দা।

গত ৩১ অক্টোবর মন্ত্রী মুজিবুল হক নিজের জীবন সঙ্গিনী হিসেবে বেছে নেন হনুফা আক্তার রিক্তাকে। প্রথম বৌভাত অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয় কুমিল্লায়। এদিকে, মন্ত্রীর বৌভাত অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে এলডি হলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে চতুর্দিকে বসানো রয়েছে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা (সিসি ক্যামেরা)। রয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ প্রহরাও।

শুক্রবার মন্ত্রণালয়ের তথ্য কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম  বলেন, মন্ত্রী পুরো অনুষ্ঠানস্থলকে সিসিটিভির নিয়ন্ত্রণে আনার ইচ্ছে ব্যক্ত করলে সংশ্লিষ্টরা বৌভাত অনুষ্ঠানস্থলে সিসিটিভি বসানোর সিদ্ধান্ত নেন। মূলত অনুষ্ঠানে বহিরাগত, ছিঁচকে চোর ও ছিনতাইকারী এবং পকেটমারদের দৌরাত্ম ঠেকাতে এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

এর আগে, গত ২৯ অক্টোবর খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন কমিউনিটি হলে রেলপথমন্ত্রীর গায়ে হলুদ অনুষ্ঠানে ছিনতাইকারী এবং পকেটমাররা অর্ধশতাধিক আমন্ত্রিত অতিথির মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ, ভ্যানিটিব্যাগ, পার্সসহ গুরুত্বপূর্ণ ও মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে যায়।

এছাড়া, গত ৩১ অক্টোবর কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার মিরাখলা গ্রামে বিয়ে অনুষ্ঠানেও শতাধিক গণ্যমান্য ব্যক্তির মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ, ভ্যানিটিব্যাগ পার্সসহ প্রয়োজনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ মূল্যবান বস্তু খোয়া যায়। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট সবার কাছে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেন মন্ত্রী।

জেআই