গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে হামলার ঘটনায় ক্ষতিড়গ্রস্থ সাঁওতালরা সরকারী ত্রাণ প্রথম দফায় ফিরিযে দিলেও এবার গ্রহণ করেছেন।জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফাতেমা তুজ জোহরা সাঁওতাল পল্লী মাদারপুর চার্চ মাঠে ত্রাণ বিতরণ করেন। প্রাথমিক তালিকাভুক্ত ১৫০ সাঁওতাল পরিবারের প্রত্যেককে ২০ কেজি চাল, এক লিটার তেল, এক কেজি ডাল, এক কেজি আলু, এক কেজি লবণ ও দুটি করে কম্বল বিতরণ করা হয়েছে।

এদিকে সাঁওতালরা হামলার ঘটনায় পরিকল্পনাকারী, ইন্ধনদাতা,সরাসরী হামলাকারী ও অগ্নিসংযোগকারী সনাক্ত করেছে। সাঁওতাল নেতারা জানান, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তারা এ তালিকা প্রশাসন, আদিবাসী ও মানবাধিকার সংগঠনসহ যেখানে প্রয়োজন সেখানেই সরবরাহ করবেন।

তালিকায় আওয়ামী লীগের স্থানীয় এমপিসহ ১৬ জনকে চিহ্নিত করেছেন সাঁওতালরা। নিয়েছে।
হামলায় সরাসরি ইন্ধন দিয়েছেন আওয়ামী লীগের স্থানীয় সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ, শাপমারা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাকিল আকন্দ বুলবুল, কাটাবাড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম রফিক ও মহিমাগঞ্জ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবদুল লতিফ প্রধান।

এর মধ্যে শাপমারা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাকিল আকন্দ বুলবুল ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। রংপুর সুগার মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল আওয়াল ছিলেন ঘটনার অন্যতম পরিকল্পনাকারী। আগুন দেয়ার সময় সুগার মিলের গার্ড ভুলু, আলম ও লতিফ এবং ওয়াচম্যান বাবলুকে চিনতে পেরেছেন সাঁওতালরা। এ ছাড়া ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত ফুকু হোসেন, রুহুল আমিন, মিজানুর রহমান, হেলাল, লখিমুদ্দিন, নুরুল ও মানাজ নামে কয়েকজন পুলিশের সামনেই আগুন দিয়েছেন বলে অভিযোগ সাঁতালদের

এই তালিকা কীভাবে তৈরি করা হয়েছে- জানতে চাইলে সাঁওতাল নেতারা গণমাধ্যমকে বলেন, ‘প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য ও ঘটনা পর্যালোচনা করেই এ তালিকা তৈরি করা হয়েছে। তবে হামলাকারীদের অধিকাংশই বহিরাগত। তারা সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ ও ইউপি চেয়ারম্যান শাকিল আকন্দ বুলবুলের ভাড়া করা সন্ত্রাসী।’

এদিকে সাঁওতালদের উচ্ছেদের ১০ দিন পরও অনেককেই খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। সাঁওতাল নেতা ভির্জিলিউস হেমরম বলেন, প্রায় ৩০ থেকে ৪০ জন নিখোঁজ। তারা কোথায় আছেন আমরা জানি না। সাঁওতালদের দাবি, তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেলেও লাশ গুম করার ঘটনাও ঘটতে পারে বলে মন্তব্য করেন

নাজিব